শ্রেষ্ঠ দিন জুমা: কী করবেন, কী করবেন না
ছবিঃ সংগৃহীত
আত্মশুদ্ধি, সামাজিক সংহতি এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক মহান সুযোগ নিয়ে আসে জুমার দিন। মুসলমানদের জন্য বিশেষ বরকতময় এই দিনটি কেবল সাপ্তাহিক নামাজের দিন নয়।
এ দিনের মর্যাদা সম্পর্কে নবীজি (সা.)-এর বাণী—“জুমার দিনই দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিনেই জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, এবং এ দিনেই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
সে কারণে জুমাকে নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; ইসলামি সভ্যতার একটি কেন্দ্রবিন্দু এটি। দিনটিতে কয়েকটি কাজের ব্যাপারে যেমন বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তেমনি কয়েকটি কাজের ব্যাপারে রয়েছে কঠোর নিষেধ।
জুমার দিনের করণীয়
১. গোসল করা
জুমার দিনের গোসলকে বিশেষ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সম্পর্কে নবীজি (সা.)-এর বাণী, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, তারপর মসজিদে আসে, নীরবে খুতবা শোনে ও নামাজ পড়ে, তার এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করা হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
২. পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার
জুমার নামাজে রওনা হওয়ার আগে সুন্দর পোশাক পরতে এবং সুগন্ধি মাখতে মুসলমানদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর ভাষায়, “জুমার দিনে তোমাদের জন্য সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫২৪৮)
বিষয়টি সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক পবিত্রতারও প্রতীক।
৩. তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজে আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার মধ্যে রয়েছে বড় ফজিলত। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রথম ঘণ্টায় জুমার জন্য যায়, সে যেন উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় ঘণ্টায় গেলে গরু কোরবানি করল; তৃতীয় ঘণ্টায় গেলে ভেড়া কোরবানি করল; চতুর্থ ঘণ্টায় গেলে মুরগি কোরবানি করল; আর পঞ্চম ঘণ্টায় গেলে ডিম দান করল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)
এর অর্থ, যিনি যত আগে যাবেন, তাঁর সওয়াব তত বেশি।
৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.)-এর বাণী, “যে ব্যক্তি খুতবা চলাকালীন তার সঙ্গীকে বলে ‘চুপ করো’, সে-ও অনর্থক কথা বলল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪)
খুতবা চলার সময় কথা বলা, ফোন ব্যবহার করা কিংবা অমনোযোগী হওয়া—সবই নিষিদ্ধ।
৫. সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা
সুরা কাহফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে জুমার দিনে। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে যাবে।” (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২)
৬. দোয়া করা ও দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনের মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুল হয়। নবীজি (সা.) বলেন, “জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যেখানে কোনো মুসলমান নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)
অনেক আলেম মনে করেন, সময়টি হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।