রাতের ফ্লাডলাইটে একসঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল, ভেন্যু এবিজি স্পোর্টস সিটি
ছবিঃ সংগৃহীত
আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) নতুন একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে মাঠের প্রতি আগ্রহী করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া।
‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর লোগো সম্প্রতি উন্মোচন করেছেন এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে এই টুর্নামেন্ট নতুন এক সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে এই মেগা আসর, যা এবারই প্রথম আয়োজিত হচ্ছে। রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় ক্রিকেট ও ফুটবল—দুই টুর্নামেন্টই চলবে একসঙ্গে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নেবে, আর শিরোপার জন্য দলগুলো ক্রিকেট ও ফুটবলের আলাদা প্রতিযোগিতায় লড়বে।
এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির যে ধারা চলে আসছে, তাতে এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বসুন্ধরা কিংস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেয়েছে, গড়ে উঠেছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এবিজি স্পোর্টস সিটি; এরপর এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়ার অগ্রযাত্রায় আরও গতি আনবে।
অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ:
শিরোপার লড়াইয়ে নামছে যে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়, সেগুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (IUB), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’ নামে জমকালো এক অনুষ্ঠান হয়ে গেছে গত শনিবার রাতে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি চেয়ারম্যানের বাসভবনে। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক আয়োজন সামনে রেখেই ছিল এ অনুষ্ঠান। এতে যোগ দেন এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর ইমরুল হাসান, অ্যাডভাইজার বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০টি দলের অধিনায়কও সেখানে অংশ নেন।
চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ টাকা, রানার্স-আপ দল ৫ লাখ টাকা—টুর্নামেন্টের জন্য এমন প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য তরুণদের পেশাদার ক্রীড়া চর্চায় উৎসাহ দেওয়া। আকর্ষণীয় এ পুরস্কার ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরার মঞ্চ হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টটি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আসা অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার এ ধরনের সুযোগ পাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাঁদের আশা, এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের এই দূরদর্শী উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ তারকা তৈরিতে তা অনন্য অবদান রাখবে।