ছবিঃ সংগৃহীত
অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহ নেই, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি শান্তিচুক্তির পথ ধরেই লড়াইয়ের ইতি টানতে চায়—এমন দাবি তুলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গেও ক্রেমলিন সরাসরি কিছু বলতে চায়নি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে মস্কোর আগ্রহ নেই; তাদের লক্ষ্য স্থায়ী শান্তি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে যা যা দরকার, সব করতে রাশিয়া তৈরি আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পেসকভের ভাষায়, “ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।”
জেলেনস্কি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন রবিবার। লড়াই চলার মধ্যেই দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। কিন্তু মস্কো প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়ায় কিছুদিনের জন্য সংঘাত থামানোর এই চেষ্টা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আস্থার সংকটে যুদ্ধবিরতি
কিয়েভ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, আগেও দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, কিন্তু রাশিয়া সেই সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। এ কারণেই যুদ্ধবিরতির নতুন উদ্যোগ ঘিরে ইউক্রেনের দিক থেকে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
মস্কোর বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তাদের মতে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাত চিরতরে থামাতে পারে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতাই এখন প্রয়োজন। তবে সেই চুক্তি কোন কোন শর্তে হবে, পেসকভের কথায় তার কোনো বিস্তারিত মেলেনি।
জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে মুখ খোলেনি ক্রেমলিন
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ট্রাম্প যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র কথা ঘোষণা করেছেন, সে বিষয়েও পেসকভের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে বিশদ কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
জ্বালানি স্থাপনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণা প্রসঙ্গে ক্রেমলিন কোন অবস্থানে আছে তা পরিষ্কার না হওয়ায় উদ্যোগটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর পরিধি কতটা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
একদিকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ, অন্যদিকে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্যে অনীহা—এ দুইয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতাকে প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থান আবারও জানিয়ে দিল মস্কো। তবে দুই দেশের লড়াই থামাতে নতুন কোনো সমঝোতা আদৌ হবে কি না, সেটি এখনও অস্পষ্ট। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান