জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার, বরাদ্দ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা
ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার, আর লক্ষ্য হলো আগামী জুনের মধ্যে পাঁচ ধরনের নির্বাচনই সম্পন্ন করা। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে আরেক দফা তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আয়োজন উপলক্ষে ডাকা প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সামান্যতম বিতর্ক বা কলঙ্কের দায়ও সরকার নিতে চায় না; এমন দায় নিতে এই সরকার রাজি নয়। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে। কোনো প্রার্থী যেন বাড়তি সুবিধা না পান, সে লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে বলা হবে।
অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে রোল মডেল বানানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, রোল মডেল বানানোর দাবি তাঁরা করছেন না; তাঁদের চেষ্টা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের। তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকারে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি; মানুষ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন পায়, সরকার সেই চেষ্টা করবে।
নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা কী হবে, সে প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, কমিশনকে দরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে, তবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনেরই। সরকার ও প্রশাসন যেন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিই সরকারের অবস্থান।
নির্বাচনের সময়সূচির পাশাপাশি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের প্রসঙ্গও টানেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের ভেতরেই নির্বাচন শেষ করতে কমিশনকে বারবার অনুরোধ করছে সরকার। নির্ধারিত সময়ে কমিশন নির্বাচন করতে না পারলে বরাদ্দের টাকা পরের অর্থবছরে চলে যেতে পারে।
মীর শাহে আলম জানান, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছেন তাঁরা। কমিশন এখন নির্বাচন শেষ করতে না পারলে সেই বাজেট তাঁদের কাছেই থেকে যাবে এবং পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এ সিদ্ধান্ত কমিশনকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার চায় আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ হোক। তবে এই সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন করা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও সক্ষমতার ওপর—জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত গড়ালে বাকিগুলো জুনের মধ্যে করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এর উত্তর দিতে পারবে নির্বাচন কমিশনই। নির্বাচন আয়োজন কমিশনের দায়িত্ব; সরকার কেবল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।
সময়সূচি কীভাবে ঠিক হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন এবং সেখানে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছে। অন্য নির্বাচনগুলোর তারিখ ও আয়োজনের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করবে কমিশন।
মীর শাহে আলম আবারও বলেন, নির্বাচন করার দায়িত্ব কমিশনের; তাঁরা কতটা পারবেন বা পারবেন না, সে জবাব তাঁরাই দেবেন। নির্বাচন সরকার করবে না, কমিশনকেই করতে হবে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করতে কমিশনের প্রতি পুনরায় অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হোক—এটাই সরকারের চাওয়া, আর এ জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।