সিমেন্টশিল্পে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনছে বসুন্ধরা গ্রুপ
ছবিঃ সংগৃহীত
চীনের গুয়াংসি ইউফেং কোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)। দেশের সিমেন্টশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় ও কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হবে।
বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারকে সই হয়। মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলের পক্ষে সই করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।
চীনা প্রতিষ্ঠানটি সমঝোতা অনুযায়ী মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে যৌথভাবে কাজ করবে দুই পক্ষ। সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, তা ঠিক করতে পরবর্তী সময়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’। সেখানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারি একদিকে বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে, অন্যদিকে দেশের সিমেন্টশিল্পের আধুনিকায়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্ববাজারের বর্তমান অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শাহেদ জাহিদ আরও বলেন, গুয়াংসি ইউফেংয়ের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করাও এ অংশীদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্ট উৎপাদনশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্টশিল্পে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা ও উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের রূপান্তর ও উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি, বিআইসিএল ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
উপস্থিত ছিলেন সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং, জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাইও।
মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে এ সমঝোতা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রতিষ্ঠান দুটি আশা করছে, এর মধ্য দিয়ে সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়বে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে।