প্রতিমন্ত্রীর প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়
ছবিঃ সংগৃহীত
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ কেউ করে থাকলে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী—এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর ভাষায়, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
আজ সোমবার সকালে ঝিনাইদহ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক বিষয় ও তাঁর পদত্যাগ নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে জামায়াতসহ বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সারা দেশে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। বিরোধী দলের কাজই হলো বিরোধিতা করা। সরকার ভালো কাজ করতে গেলেও তারা বিরোধিতা করবে। তবে আমরা এতে কান দিচ্ছি না। যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের ন্যায্য ও প্রাপ্য অংশই পাচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে কোনো আইনি বাধা নেই। আগে যেভাবে তাঁরা অংশ নিতেন, এখনো সেভাবেই অংশ নিতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার আশাবাদী উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেক্ষাপট
প্রথম আলোর ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পিস্তল উঁচিয়ে ধরেন এবং এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে; ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে।
প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোববার ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন তিনি ও তাঁর দেহরক্ষীরা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন এবং তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সকৃত।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন এবং তদন্ত দাবি করেন।
সংখ্যার হিসাব
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৫ অক্টোবরের ওই প্রতিবেদনে গোলাম পরওয়ারের বরাত দিয়ে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সারের সংকট পাওয়া যায়।
একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দিনাজপুর এবং রংপুরের বদরগঞ্জে অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ ওঠে; রংপুরের পীরগঞ্জে বিএনপির প্যাডে দেওয়া ডিলার তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নাম ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ১৫ অক্টোবর ২০২৬