মালয়েশিয়াগামী কর্মীর মেডিকেল টেস্টে ৮ হাজার টাকার বেশি নয়, সতর্ক করল মন্ত্রণালয়
ছবিঃ সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কাজ নিয়ে যেতে চান এমন সাধারণ কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা ঠিক করে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর বাইরে বাড়তি এক টাকাও নেওয়া যাবে না।
শনিবার মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মেডিকেল (স্বাস্থ্য) টেস্টের জন্য এই নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কর্মী ভাইকে মেডিকেল টেস্টের ফি বাবদ কোনোক্রমেই ৮ হাজার টাকার বেশি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। মেডিকেল টেস্টের জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্যও সতর্ক করা হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির হয়ে কাজ করবে না। মালয়েশিয়ার জন্য বাছাই হওয়া কর্মী যেকোনো অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। কোনো এজেন্সি মেডিকেল স্লিপ দেওয়ার পর কর্মী যদি অন্য এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আগের এজেন্সিকে দেরি না করে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে হবে। স্লিপ দেওয়া এজেন্সির কোনো ওজর-আপত্তি এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।
কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি চাইলে, কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি, টালবাহানা বা ঝামেলা করলে সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ই-মেইল করার কথা বলা হয়েছে। মাইগ্রামস (migrams) স্লিপের জন্য কোনো ফি লাগে না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও পরীক্ষা করবে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো অনিয়ম বা গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোকে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ ৩১ অক্টোবর থেকে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে করানো স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
প্রেক্ষাপট
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগে মালয়েশিয়া ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২৮ অক্টোবর ২০২৬ এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ৪২৩টি বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা থেকে ২৫টিকে প্রধান এজেন্সি হিসেবে বেছে নিয়েছে মালয়েশিয়া; তাদের সঙ্গে আছে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি ও রাষ্ট্রায়ত্ত বোয়েসেল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৯ আগস্ট ২০২৬-এর খবরে বলা হয়, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে ১৬টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে; বিতর্কিত সেন্টারগুলো বাংলাদেশের অনুরোধে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
সংখ্যার হিসাব
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হিসাবে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় যান; সরকার-নির্ধারিত ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও তাঁদের মাথাপিছু গড় খরচ পড়েছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৯ আগস্ট ২০২৬