১৭ বছরের বঞ্চিতদের প্রাপ্য সম্মান ফেরাতে কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বঞ্চনা সয়ে আসা মানুষদের প্রাপ্য সম্মান ফেরাতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিতদের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ কেবল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সীমাবদ্ধ নয়, তা নেওয়া হয়েছে সব ক্ষেত্রেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) বি-৯৮৫-এর ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে স্টাফ কলেজ অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন হয়।
নিজের বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই, ১৭ বছর যারা বঞ্চিত হয়েছেন, ধীরে ধীরে তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে। সেই লক্ষ্যেই সরকার সব ক্ষেত্রে কাজ করছে। কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেসব সমস্যা ও দাবি আজ উঠে এসেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করব।’
কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিখতে হবে; জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন ওঠে—এমন কোনো কাজ ভবিষ্যতে করা যাবে না। পাশাপাশি গ্রাহকের স্বার্থ ও কৃষকের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।
কৃষিঋণ মওকুফের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের সুফলের বড় অংশই গেছে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছে। ব্যাংকটি কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি ধন্যবাদও জানান। সরকারি হিসাব বলছে, সারা দেশে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক।
কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি; মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং কৃষকের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই কর্মসূচিটির পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দেশের সব কৃষককে ধাপে ধাপে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে। ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫ হাজার কৃষককে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ নানা সুবিধা কৃষকেরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পাবেন বলে জানান আমিনুল হক। ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তারও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃষককে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠলে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারাও নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সুযোগ পাবেন। ব্যাংকটির মূল দায়িত্বই হলো প্রান্তিক ও অসহায় কৃষকের পাশে থাকা।
সরকারের নানা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের কাজ চলছে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে। আগামী সাড়ে চার বছর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজুজ্জামান মামুন মোল্লা, কৃষি ব্যাংক ঢাকা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মো. আরিফ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজের অধ্যক্ষ এ এইচ এম মাহবুবুল বাসেত ভূঁইয়া, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম রাজা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, কৃষি ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন, কৃষিবিদ লিয়াকত হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন ও সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।