মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র-হুতি রুদ্ধদ্বার বৈঠক, উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সামরিকভাবে এগিয়ে গিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে—এই প্রেক্ষাপটেই বৈঠকটি হচ্ছে। ইরান ঘিরে উত্তেজনা ও ইয়েমেনের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বহুপক্ষীয় এই বৈঠক হতে পারে আগামী মঙ্গলবার, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে।
প্রকাশ্য কূটনীতির আড়ালে এদিকে ওমান সরকারের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তা ও হুতি প্রতিনিধিরা। গোপন এই বৈঠক বসে গত সপ্তাহান্তে, মাসকাটের মার্কিন দূতাবাসে। হুতি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সঙ্গে ছিলেন আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরি। মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হওয়া আলোচনায় মূল বিষয় ছিল লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ইয়েমেন যুদ্ধ।
গোপন সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিরা বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা চালানোর ইচ্ছাও তাদের নেই। ইসরায়েলি কিংবা সাধারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালানো হবে না—এ কথাও জানিয়েছে হুতিরা। তবে ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরবের ভূমিকার কথা বিবেচনা করে সৌদি জাহাজের বেলায় সিদ্ধান্ত অন্য রকম হতে পারে।
হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি যোগাযোগ যে অব্যাহত আছে, তা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে হুতিরা মার্কিন প্রশাসনকে বার্তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য ওমানের বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। দপ্তরটির এক মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটনের মূল অগ্রাধিকার হলো অঞ্চলটিতে চরমপন্থার বিস্তার ঠেকানো এবং লোহিত সাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা।
ইয়েমেনের গোটা লোহিত সাগর উপকূল, বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা—সবখানেই সম্প্রতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ওয়াশিংটন অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর আগ্রহ তাদের নেই। হুতিরা ২০১৪ সালে সানা দখল করার পর থেকে সৌদি জোটের সঙ্গে যে বিরোধ চলছিল, মাঝখানে তা থমকে গিয়েছিল। তবে সৌদি অবরোধের জবাবে সম্প্রতি লোহিত সাগরে হুতিদের কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেখানে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে।