ছবিঃ সংগৃহীত
কয়েক ডজন উড়োজাহাজ ও কয়েক হাজার কর্মী নামিয়েও ভয়াবহ দাবানল সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটি ‘সব ধরনের’ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার এ তথ্য দিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
দমকলকর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে আগুন নেভানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দাবানল থেকে ছড়ানো ধোঁয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকা, সেই সঙ্গে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কিছু অংশও।
খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি, ইন্দোনেশিয়ার পন্টিয়ানাক থেকে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া বলেন, আগুনে পানি ছিটানোর কাজে সরকার গত মাস থেকে ওই দুই দ্বীপে ৫৪ হাজার কর্মীর পাশাপাশি ৬৪টি উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষায়, ‘আকাশ থেকে মাটি— সব বাহিনীই কাজ করছে। আগুন নেভানো, ধোঁয়ার প্রভাব কমানো এবং সবচেয়ে বড় কথা, বন ও ভূমির আগুনের হুমকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সব কিছুই করা হচ্ছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এলাকার বিশাল আয়তন এবং পিটভূমির জটিল অবস্থা বিভিন্ন অঞ্চলে বন ও ভূমির আগুন মোকাবিলায় বড় সমস্যা তৈরি করছে।’
পশ্চিম কালিমান্তান সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানকার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র ড্যানিয়েল সিনিয়র বলেন, ওই এলাকার পিট মাটির নানা গভীরতায় আগুন জ্বলছে, যার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ড্যানিয়েল সিনিয়রের ভাষ্য, ‘আরেকটি সমস্যা হলো, মাটিতে কাজ করা বাহিনীর জন্য পানির উৎস সীমিত। সাধারণত আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানির উৎস কমে যায়, একসময় পুরোপুরি শুকিয়েও যায়।’
আগুন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে যৌথভাবে মামলা দায়ের করেছে পশ্চিম কালিমান্তানের আদিবাসী ও নাগরিক সমাজের কয়েকটি সংগঠন।
বিবৃতি দিয়ে সংগঠনগুলোর আইনজীবী গ্লোরিও সানেন বলেন, ‘এটি নতুন কোনো দুর্যোগ নয়, প্রতিবছরই এমনটা ঘটে। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিই প্রমাণ করে, বন ও ভূমির আগুন থেকে তৈরি দুর্যোগ এবং এর সম্ভাব্য ধোঁয়াজনিত বিপর্যয় সম্পর্কে আসামিরা জানতেন।’
আগুন নেভানোয় সহযোগিতার জন্য চলতি মাসে পশ্চিম কালিমান্তানে এসেছেন জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩৫০ সদস্য।
মালয়েশিয়ার সহায়তা গ্রহণে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও।
শুষ্ক মৌসুমে, সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে আগুন লাগা নিয়মিত ঘটনা।
এবার অবশ্য আগুন বেশি তীব্র। তার ওপর যুক্ত হয়েছে গত চার দশকে তুলনীয় রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির আশঙ্কা।
এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, কয়েক দশক ধরে চলা বন উজাড় এবং আগুন লাগিয়ে জমি পরিষ্কার করার প্রথারও দায় দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যে ভূমি স্বাভাবিকভাবে আগুন প্রতিরোধী, এসব কারণে তার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে।
সরকারি তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে গোটা ইন্দোনেশিয়ায় পুড়ে গেছে ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমি।
ওই একই সময়ে প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে বলে হিসাব দিয়েছে নুসান্তারা অ্যাটলাস প্রকল্প। তারা জানিয়েছে, এর সঙ্গে আগস্টের হিসাব ধরলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টরে গিয়ে ঠেকে।