ছবিঃ সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া বুধবার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটি।
সুরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘিরে পিয়ংইয়ং ও সিউলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যেই এসব পরীক্ষা চলছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, ‘উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।’ পূর্ব সাগর জাপান সাগর নামেও পরিচিত।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়, অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিএমজেডে যেসব স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়েছে, সেগুলো এক বছরেরও বেশি আগে পুঁতে রেখেছিল উত্তর কোরিয়া।
পিয়ংইয়ং অবশ্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর এক দিন আগে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। তার আগে গত সপ্তাহের শেষে গুচ্ছবোমার ওয়ারহেডও পরীক্ষা করেছিল দেশটি।
এদিকে বুধবারই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের ‘অপরিবর্তিত শত্রুতামূলক নীতির’ জবাবে তাঁর দেশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংলাপে বসতে অনাগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিপিআরকে’র (উত্তর কোরিয়ার সরকারি নামের সংক্ষিপ্ত রূপ) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক নীতি বাস্তবায়নে যখন নতুন নতুন নজির সৃষ্টি হচ্ছে, তখন আমাদের পাল্টা পদক্ষেপেও নতুন নজির সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সকালে পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া, যার অন্তত একটি ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয় — কোরিয়া টাইমস ১৩ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে, গত ১২ আগস্টের উৎক্ষেপণটি ছিল ২০২৬ সালে পিয়ংইয়ংয়ের একাদশ সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা — তাইওয়ানপ্লাস সেদিন এ খবর দেয়।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: কোরিয়া টাইমস, ১৩ অক্টোবর ২০২৬; তাইওয়ানপ্লাস, ১২ আগস্ট ২০২৬

