অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পূর্ণ সমর্থনে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের যে নীতি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও নীতির সঙ্গে সংস্থাটি পুরোপুরি একমত জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংস্থাটি প্রস্তুত।
আমির খসরু জানান, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশের অর্থনীতি সংকটে ছিল। আগের সময়ের নানা দায়-দায়িত্বের ভার এখন সরকারকে বইতে হচ্ছে, সঙ্গে আছে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক বিপর্যয়। বিশ্বব্যাংক এসব বিষয় উপলব্ধি করছে এবং পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের নেওয়া নীতিগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক খুবই আগ্রহী। সরকারের গৃহীত নীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর পর ভবিষ্যতের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ ঠিক করা হয়েছে, তার সঙ্গে সংস্থাটি সম্পূর্ণ একমত। এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দরকারি বিষয়গুলো আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করা হবে, আর বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত আছে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়া নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া; এর ভিত্তিতেই পরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় তিনি অনেক ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছেন। এটি একটি আলোচনা, যার ভিত্তিতে পরে একটি ফলোআপ হবে; এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী কয়েক মাস।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের মিল রয়েছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চায় না সরকার। প্রতিটি সংস্থা নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণ থেকে পূর্বাভাস দিয়েছে; সময় গড়ালে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করার ইচ্ছা সরকারের নেই; তারা তাদের হিসাবে প্রক্ষেপণ দিয়েছে। সরকার নিজের কাজ করে যাচ্ছে, সংস্থাগুলোও নিজেদের মতো করছে। মূল কথা হলো, দুই পক্ষের মধ্যে যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা অব্যাহত থাকবে।
বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো সরকার পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।