ছবিঃ সংগৃহীত
উয়েফা নেশনস লিগে টানা তৃতীয় জয়ের দেখা পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন; নিজেদের মাঠে তারা ৩-১ গোলে হারিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রকে। ম্যাচে স্বাগতিকেরা চমক দেখিয়েছে একের পর এক—প্রথমে তরুণ তারকার জাদু, তারপর গোল পান অধিনায়ক রদ্রি। সেই সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল গড়ল সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচ টানা অপরাজিত থাকার কীর্তিও।
ওভেইদোর এই ম্যাচে স্পেন প্রথম থেকেই খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। ষষ্ঠ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের গোলে ব্যবধান তৈরি হয়। ডান প্রান্ত ধরে ক্ষিপ্রগতিতে ভেতরে ঢোকেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড, দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে জায়গা বের করেন এবং ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল পাঠান জালে। ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের নাগাল পাননি চেক গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কি।
গোল পাওয়ার পরও স্পেন আক্রমণের ধার ধরে রাখে। কিনস্কিকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেন পেদ্রি, আইমেরিক লাপোর্তে ও ওলমো। চেক গোলরক্ষক ৩৫ মিনিট পর্যন্ত দলকে বাঁচিয়ে রাখেন, তবে এরপর আর শেষরক্ষা করতে পারেননি।
পেদ্রির বাড়ানো বলে শট নিয়েছিলেন রবার্তো ফার্নান্দেজ, কিন্তু চেক ডিফেন্ডাররা তা রুখে দেন। ফিরতি বলটি যায় রদ্রির কাছে, আর স্পেন অধিনায়ক সুযোগটি নষ্ট না করে দ্রুত শট নিয়ে বল জালে পাঠান। জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ২০২৪-এর পর রদ্রির এটিই প্রথম গোল।
স্পেন কোচ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন ইয়ামালকে; মাঠে আসেন ভিক্টর মুনোজ ও ইয়েরেমি পিনো। এরপর চেক প্রজাতন্ত্র ম্যাচে ফিরতে সচেষ্ট হয় এবং তাতে সাফল্যও পায়—অ্যাডাম হোজেকের বাড়ানো বল থেকে স্লামার গোলে ব্যবধান কমে আসে।
সফরকারীরা সমতায় ফেরার সুযোগও তৈরি করে ফেলেছিল। ৭৯ মিনিটে স্পেনের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পরাস্তও করেন রেঞ্জার্সের ফরোয়ার্ড রায়ান নাদেরি, কিন্তু ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ ভাগে নিয়ন্ত্রণ আবার চলে যায় স্পেনের হাতে। ৮৫ মিনিটে ফার্নান্দেজকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান কেজচি। সেই সুযোগ নিয়ে স্বাগতিকেরা কয়েক মিনিটের ভেতরেই তৃতীয় গোলটি আদায় করে; গোলদাতা আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
৩-১ গোলের জয় নিয়েই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়েছে স্পেন। এতে তিন ম্যাচ থেকে পুরো ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা উয়েফা নেশনস লিগের ‘এ-৩’ গ্রুপে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল।