চরফ্যাশনে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ
ছবিঃ সংগৃহীত
ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলার চরফ্যাশন এলাকার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে আকস্মিকভাবে ইলিশ মাছের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত তিন-চার দিন ধরে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় সামরাজ, বেতুয়া ও ঢালচরসহ সেখানকার স্থানীয় মাছঘাটগুলোতে আনন্দ ও চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বর্তমানে প্রতিটি নৌকা এক একবারে প্রায় দুই থেকে তিন মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে। দীর্ঘদিনের প্রকাট মৎস্যসংকট কাটিয়ে জেলেরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন। এর পাশাপাশি ঘাটগুলোতে পাইকারি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বহুলাংশে বেড়েছে।
নদী থেকে ফিরে তীরে ভেড়া নৌকাগুলো থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামানো হচ্ছে—শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে চরফ্যাশনের বিভিন্ন মাছঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশই এসব মাছের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নদীতে গত দুই মাস কাঙ্ক্ষিত মাছ মেলেনি; ফলে ধার-দেনা ও ঋণ করেই বাধ্য হয়ে তাদের পরিবার চালাতে হয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে মাছ ধরার জাল ও নৌকা অনেকে ডাঙায় তুলে রাখেন। তবে গত কয়েক দিনে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে থাকায় জেলেপল্লিগুলোতে কাজের ব্যস্ততা আবার ফিরেছে।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বেতুয়া ঘাটের জেলে বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের দিকে সহায় হয়েছেন। বেশ কিছুদিন খালি হাতে ফেরার পর এখন জাল ফেললেই প্রচুর ইলিশ মিলছে, আর বাজারে দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।’
বাজারে ইলিশ বেশি আসায় পাইকারদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে জানান নতুন স্লুইস ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আকতার মেম্বার। এখন এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ প্রতি কেজি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে; আর ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দর কেজিপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, সরকারি প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা নিধন প্রতিরোধে যেসব নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, এখন তারই সুফল মিলছে। তা ছাড়া সাম্প্রতিক প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বিপুল পরিমাণ ইলিশ সাগর ছেড়ে নদীর দিকে চলে আসছে।
তবে জেলেরা অভিযোগ করেছেন, কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল দিলেও অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে এখনো জাটকা শিকার করে চলেছে কিছু অসাধু লোক। তারা মনে করছেন, ইলিশের উৎপাদন ও বংশবৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে জাটকা নিধন বন্ধ করতে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার, জোরদার করা দরকার অভিযানও। এর পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের দাবি, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মাছ ধরায় যে নিষেধাজ্ঞা নির্ধারিত রয়েছে, তা আরও ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হোক।