চার অসুস্থ ও প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের সাহায্যে এবিজি ফাউন্ডেশন।
ছবিঃ সংগৃহীত
গণমাধ্যমকর্মী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। সাংবাদিকরা নিজেদের জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি তুচ্ছ করেও সব সময় সাধারণ মানুষের সমস্যা আর অধিকারের কথা সামনে আনেন। নিরলসভাবে এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো কখনো তাদের নিজেদেরও আর্থিক ও মানসিক সমর্থন দরকার হয়। বিপদের সময় সমাজের এই বিবেকবান মানুষদের পাশে দাঁড়ানো একটি সামাজিক দায়িত্ব—এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ।
তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার চার সাংবাদিকের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এ অনুদান তুলে দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে এবিজি ফাউন্ডেশন হস্তান্তর করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকার চেক—বাংলাদেশ সচিবালয় বিটে কর্মরত দুজন অসুস্থ সাংবাদিক এবং দুজন প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে।
অনুদান যারা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে আছে প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদার ও হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবার; আছেন চিকিৎসাধীন সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন ও আমানুর রহমানও। এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ছিলেন বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক এবং ইডাব্লিউপিডি, বিসিডিএল ও এএন্ডএফ-এর ডিএমডি ও হেড মো. ইমরুল হাসান; এবিজি-এর আর অ্যান্ড ডি বিভাগের প্রধান এম. জেড. হোসেন আরজু এবং এবিজি ফাউন্ডেশনের জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. শাজেদুল করিম।
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদার। অনুদানের চেকটি তার হয়ে নেন ছেলে মো. তৌহিদ হারুন। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও তারা এ সহায়তা চালিয়ে যাবে।
দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন মারা যান করোনায় আক্রান্ত হয়ে। পাঁচ লাখ টাকার চেকটি নেন তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা। তিনি জানান, মহামারির ওই দুঃসময়েও তারা বসুন্ধরা গ্রুপকে পাশে পেয়েছিলেন; আর এখনকার এই অন্ধকারময় পরিস্থিতিতে এ আর্থিক সহায়তা তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি এবং বড় একটি প্রাপ্তি।
স্বামীর চিকিৎসার জন্য চেকটি গ্রহণ করে এবিজি ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ দেন দৈনিক সংবাদের অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিনের স্ত্রী নাসরিন জাহান। এ ছাড়া দৈনিক নয়া দিগন্তের চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আমানুর রহমান নিজেই উপস্থিত হয়ে অনুদানের চেক নেন। এবিজি ফাউন্ডেশনের এ মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির মঙ্গল কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মো. ইমরুল হাসান বলেন, সুন্দর একটি সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা আয়নার মতো। তবে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকলে স্বাধীনভাবে সমাজের কথা তুলে ধরা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়; তাই তাদের আর্থিক সচ্ছলতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, এবিজি ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের নির্দেশনায় শুধু সাংবাদিকদের নয়, সারা দেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও প্রতিনিয়ত সহায়তা দিয়ে চলেছে।
বিএসআরএফ ও এবিজি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে একটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালুর ঘোষণাও দিয়েছে। ইতিবাচক, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতায় গণমাধ্যমকর্মীদের উৎসাহ জোগানোই এর লক্ষ্য। জানানো হয়, প্রস্তাবিত পুরস্কারটির স্পন্সর হিসেবে যুক্ত থাকবে এবিজি ফাউন্ডেশন।
প্রসঙ্গত, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এবিজি ফাউন্ডেশন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার দুস্থ ও এতিম শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করে; এর সঙ্গে নদীভাঙনের শিকার অসহায় পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের কার্যক্রমও তারা চালিয়ে আসছে।