ছবিঃ সংগৃহীত
ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪৭ পেসোতে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশটিতে শুরু হওয়া দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘট তৃতীয় দিনে পা দিয়েছে। পরপর কয়েক দফায় দাম বেড়েছে; তা সহনীয় পর্যায়ে নামাতে গণপরিবহন চালকরা পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত আবগারি কর স্থগিত করার দাবি তুলছেন।
প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অবশ্য দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কর স্থগিত হলে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পেসো রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়বে সরকার।
গণপরিবহন চালকরা তিন দিনের এই ধর্মঘট ডাকেন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে, জ্বালানি তেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে। আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার ক্যালোকান সিটির ব্যস্ত মনুমেন্তো এলাকায় ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ৭৮ বছর বয়সী জিপনি চালক এলমার কর্ডোরো; সে সময় স্ট্রোক করে তিনি লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে খানিকটা বিরতি নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তবু আকাশচুম্বী জ্বালানি মূল্যের প্রতিবাদে এবং ডিজেল ও পেট্রোলের কর বাতিলে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের কাছে দাবি জানাতে তিনি বরাবরই রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। এখন হাসপাতালে কোমা অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের এই সময়ে ফিলিপাইন সরকারের অবহেলার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন কয়েক দশক ধরে জিপনি চালিয়ে আসা প্রবীণ এই চালক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের আয়-রোজগার নেই বললেই চলে—এ কথা জানান পরিবহন ফেডারেশন পিস্তনের সভাপতি মোদি ফ্লোরান্দা। এদিকে ‘প্যারা কমিউটার্স নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, জ্বালানির দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকায় চলতি সেপ্টেম্বরেই গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন আরও ২০ শতাংশ গণপরিবহন চালক। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ যাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির দায় সরাসরি প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ওপর চাপিয়েছেন প্যারা কমিউটার্স নেটওয়ার্কের মুখপাত্র রেইন দেসাকা। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধাবস্থার সময় জ্বালানির কর স্থগিতের আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে আছে, অথচ তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। মানুষের এই দুর্ভোগের দায় মার্কোসের নিজেরই, আর সংকট সমাধানে তার ব্যর্থতা যুদ্ধাবস্থার মতোই সমস্যাজনক।