তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ঘিরে ফের আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি: দ্য হিন্দু
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু হয়েছে; এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর। এ তথ্য জানা গেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদন থেকে।
সম্প্রতি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি দেখা দিয়েছিল ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। দ্য হিন্দু অবশ্য দাবি করেছে, ওই টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা ও গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে আলোচনায় স্থান পাবে।
প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে তার একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি আছে। এসবের ফাঁকে আগামী নভেম্বরের কোনো সুবিধাজনক সময়ে নয়াদিল্লি সফর নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উদ্যোগটির অংশ হিসেবে ঢাকার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাদের মধ্যে রয়েছেন।
বিমসটেক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাননি কোনো প্রতিনিধি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, পুরোপুরি অনুকূল সময়ে শীর্ষ পর্যায়ের এই সফরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, আর এর উদ্দেশ্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলা।
শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই। তার একটি বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে শেখ হাসিনা এবং তার প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি); ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়।