‘ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ছিল আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার, আজ তা বাস্তবায়িত হচ্ছে’
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন ছিল নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার—এ কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বহুদিনের সেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই লেক খনন ও এর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে, যা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, রাজধানীবাসীর জন্যও আনন্দের।
ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিশেষ অতিথি হিসেবে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার মানুষের কাছে ধানমন্ডি লেক খুবই চেনা এবং ঐতিহ্যবাহী এক জলাধার; এ লেকের নাম জানেন না, রাজধানীতে এমন নাগরিক একজনও নেই। লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।
তিনি আরও বলেন, ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন নির্বাচনের সময়। সে অঙ্গীকার পূরণের কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন নিয়ে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ মিলেছে ২৬ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয়ে খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হবে ধানমন্ডি লেকে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লেকের তলদেশে যে স্লাজ জমে আছে, তা সরিয়ে ফেলা হবে। বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে প্রকল্পের আওতায়।
তিনি উল্লেখ করেন, দৈনিক প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ সরানো সম্ভব হবে।
এর মধ্য দিয়ে সুযোগ তৈরি হবে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির, সেই সঙ্গে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার।
মন্ত্রী আরও বলেন, লেক খনন বা সৌন্দর্যবর্ধনটুকুই যথেষ্ট নয়; জনগণের জন্য একে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় রূপে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই ধানমন্ডি লেকের বিস্তারিত নকশা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় আছে লেকের চারপাশে মানুষের স্বচ্ছন্দ চলাচলের ব্যবস্থা এবং বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ নানা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে। এগুলোর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের উন্নয়ন হবে, পাশাপাশি তৈরি হবে নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী নানা অবকাঠামো।
লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম ও নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে লেক এলাকায়। ফলে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে ধানমন্ডি লেক আর কেবল একটি জলাধার হয়ে থাকবে না; নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এটি হয়ে উঠবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
তিনি বলেন, ঢাকার সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধানমন্ডি লেকের সংরক্ষণ দরকার। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে লেকের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি।
তিনি এ-ও মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যাবে।
মন্ত্রীর কথায়, ‘শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন লেকে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন; এ সময় লেকের পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো লেককে সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকারের, আবার সেই সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদের ওপরও বর্তায়। উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে, যদি নাগরিকরা সচেতন হন।
তিনি আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন কেবল একটি এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ গোটা ঢাকা শহরের জন্যই। উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ এনে দেয়। সে কারণে লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে।
অন্যদিকে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ ও ভারসাম্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগের কথা এর আগে জানানো হয়েছে ডিএসসিসির পক্ষ থেকেও।
মন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লেক ঘিরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়ামসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজে সরকারের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা সম্ভব হলে লেকটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে।
বহুদিন ধরে প্রত্যাশিত এই উন্নয়নকাজ যাতে সফলভাবে শেষ হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সূত্র: বাসস