ছবিঃ সংগৃহীত
‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন এবং নিজের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করে যাবেন।’—যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ক্রেমলিনের ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নে সোমবার (৪ নভেম্বর) এ জবাব দেন রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
বিবিসির রুশ সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেসকভের কথার সারমর্ম ছিল এই—নির্বাচনের ফল যেমনই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে আগের মতোই স্বাভাবিক পরিস্থিতি আশা করছে মস্কো।
রাশিয়ার প্রত্যাশা হয়তো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি মেটাতে পারেননি। বিশেষ করে রাশিয়ার শর্ত মেনে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর একটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সই করাতে পারেননি তিনি। তবু তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ক্রেমলিনের জন্য বেশ কিছু অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সমালোচনায় ট্রাম্প যতটা সরব, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেলায় ততটা কঠোর তাঁকে দেখা যায়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অবশ্য রাশিয়ার সংবাদপত্র নেজাভিসিমায়া গাজেতা ভিন্ন এক পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা লিখেছে। পত্রিকাটির পূর্বাভাস, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে শুরু হওয়া একাধিক তদন্তে জড়িয়ে পড়তে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাতে তাঁর রাজনৈতিক মনোযোগ আর প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। পত্রিকাটির ভাষ্য, এমন অবস্থায় রাশিয়াসহ নানা বিষয়ে পছন্দের নীতি বাস্তবায়ন ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রেক্ষাপট
সিবিএস নিউজের ৩ নভেম্বরের হিসাবে, নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ২১৮টি (সঙ্গে তাদের পক্ষে থাকা একজন স্বতন্ত্র), ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি; সিনেটে রিপাবলিকান ৫৩, ডেমোক্র্যাট ৪৭ জন।
এবিসি নিউজের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা — ডব্লিউএফটিভি চ্যানেল ৯ ৪ নভেম্বর এ খবর প্রকাশ করেছে।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: সিবিএস নিউজ, ৩ নভেম্বর ২০২৬; ডব্লিউএফটিভি চ্যানেল ৯ / ইয়াহু নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬

