ব্রাজিলে প্রথম দফায় ফয়সালা হলো না, ভোট গড়াল দ্বিতীয় ধাপে
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি প্রধান দুই প্রার্থীর কেউই, ফলে নিয়ম মেনে ব্রাজিলের নির্বাচন গড়িয়েছে দ্বিতীয় দফায়। গতকাল রবিবার প্রথম দফার ভোট হলেও দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি।
দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান বাছাই করতে ব্রাজিলের ভোটাররা আবার ভোট দেবেন আগামী ২৫ অক্টোবর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে লড়ছেন ১৩ জন প্রার্থী। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্য দুজনের মধ্যে—বর্তমান প্রেসিডেন্ট বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ৮০ বছর বয়সী লুলার বিপরীতে ফ্লাভিও বলসোনারোর বয়স ৪৫ বছর। ফ্লাভিও হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কট্টর ডানপন্থী নেতা জইর বলসোনারোর ছেলে।
প্রথম ধাপে লুলা ও ফ্লাভিওর লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি—এমন তথ্য দিয়েছে বিবিসির প্রতিবেদন। ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট গোনা শেষে ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট নিয়ে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ফ্লাভিও। লুলার ঝুলিতে গেছে ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।
যে ভোট এখনো গণনার বাকি, তা দিয়ে লুলা কিংবা ফ্লাভিও কারও পক্ষেই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের সীমারেখা পেরোনো সম্ভব নয়। তাই গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে প্রথম ধাপে শেষ হাসি কারও ভাগ্যে জোটেনি। এই দুই প্রার্থীই লড়বেন দ্বিতীয় ধাপে; এখন অপেক্ষা সেই ভোট আর তার ফলাফলের।
প্রথম ধাপে পিছিয়ে পড়াকে প্রেসিডেন্ট লুলা আখ্যা দিয়েছেন ‘অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে। গতকাল তিনি জানান, পরের ধাপে ‘আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন’। লুলা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম, প্রথম ধাপে জয়ী হব। কিন্তু আসল খেলা কেবল শুরু হতে যাচ্ছে।’
বামপন্থী এই রাজনীতিকের আরও বক্তব্য, ‘আমরা এখন খেলার অতিরিক্ত সময়ে আছি। অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ব্রাজিলের জনগণের মন জয় করে নেব।’
প্রথম ধাপে এগিয়ে থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে ফ্লাভিও অবশ্য ‘খুবই খুশি’। গতকাল এই সিনেটর পরের ধাপেও জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আর মাত্র তিন সপ্তাহ পর ব্রাজিলের মানুষ আধুনিক একটি সরকার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে—এ বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
লুলার কাছে হেরেই ব্রাজিলের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন ফ্লাভিওর বাবা জইর বলসোনারো। পরে নানা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন জইর বলসোনারো। নির্বাচনে হারের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এখন তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড খাটছেন।
লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশেই এখন জয়জয়কার চলছে ডানপন্থার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরাই নির্বাচিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের অনেক দেশের ভোটারদের রায়ে। ব্রাজিল ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক—উভয় বিচারেই লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ; দেশটি কোন পথ বেছে নেবে, সেটি জানা যাবে সপ্তাহ তিনেক পরে।
সূত্র: বিবিসি