মোহাম্মদপুরে দুই গোপন গুদাম থেকে ৩ লাখের বেশি অবৈধ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার
ছবিঃ সংগৃহীত
৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে, দুটি আবাসিক ভবনের গোপন গুদাম থেকে। অভিযানটি চালায় মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ঢাকার দুটি প্রিভেন্টিভ টিম। জব্দ করা এসব সিগারেটের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা, যার বিপরীতে মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
বুধবার এ অভিযান চলে শ্যামলীর পিসি কালচার হাউজিং এবং মোহাম্মদপুরের জয়েন্ট কোয়ার্টার এলাকায়, গোপন সংবাদের সূত্র ধরে। দুই ভবনে দুটি দল একই সঙ্গে অভিযানে নামে সকাল ১১টার দিকে। গুদাম দুটি তখন তালাবদ্ধ ছিল। পরে গোপন গুদাম শনাক্ত করা হয় ভবনের দারোয়ানের সহায়তায়। গুদামমালিককে পাওয়া না যাওয়ায় ভবনমালিকের সহযোগিতা নিয়ে বাইরে থেকে মিস্ত্রি ডেকে আনা হয়; তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে গোয়েন্দা দল। ভেতরে মেলে বস্তায় ভরা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট।
উদ্ধার হওয়া সিগারেটের মধ্যে একটি গুদামে ছিল প্যাট্রন ন্যানো ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা। আর অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট মেলে অন্য গুদামটিতে।
গোয়েন্দা দল স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে, গুদাম দুটি ভিন্ন ঠিকানায় হলেও এগুলোর প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। গুদাম দুটি ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলেছিলেন। দারোয়ানের ভাষ্য, মালামাল সেখানে সাধারণত রাতে আনা হতো, আর কুরিয়ারের মাধ্যমে তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো।
গুদামমালিকের অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন ভবনমালিকেরা। তারা আশ্বাসও দিয়েছেন, ভবিষ্যতে গুদাম ভাড়া দেওয়ার বেলায় আরও সতর্ক থাকবেন। অবৈধ হওয়ায় উদ্ধার করা সিগারেট জব্দ করা হয়েছে এবং তা রাখা হয়েছে নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে। পূর্বানুমতি ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতি ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানির সুযোগ নেই; তাই এগুলো পরে বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে। ঘটনাটিতে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চোরাচালান চক্রটিকে শনাক্ত ও আটক করতে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চক্রটি অবৈধভাবে বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহ করে আসছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা মেনে সারা দেশে এমন অভিযান চলতে থাকবে; এর লক্ষ্য সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা।