ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতসহ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা কয়েকটি দেশ নতুন করে বড় শুল্ক ঝুঁকিতে পড়বে, যদি ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ কার্যকর হয়। বহুল আলোচিত ও কঠোর বিধানসংবলিত এই বিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ওয়াশিংটনের এই চরম পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং ক্রেমলিনের অর্থনীতিকে চূর্ণ করে দেওয়া।
আইনসভা সূত্রের তথ্য, বিলটি সিনেটে আগেই পাস হয়েছিল; প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে তা চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেল। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র যত পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে বড় ও আগ্রাসী বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনটি প্রেসিডেন্টকে একক ক্ষমতা দিচ্ছে—রাশিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ, তেল বা গ্যাস কিনে যেসব দেশ মস্কোর অর্থনীতি সচল রাখছে, তিনি চাইলে তাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে পারবেন।
ক্যাপিটল হিলে অবশ্য বিলটির পথচলা মোটেই নির্বিঘ্ন ছিল না; পাস হওয়ার পথে একাধিক বাধার পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক মতভেদও তৈরি হয়। কড়া বিরোধিতা আসে বিশেষ করে হাউস ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, আইনটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনিয়ন্ত্রিতভাবে শুল্ক আরোপের অপরিসীম ক্ষমতা পেয়ে যাবেন এবং সেই ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা আছে।
সংশোধনী নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলার একপর্যায়ে একটি বিশেষ সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য স্টেনি হোয়ার। সেকেন্ডারি শুল্ক কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাম স্পষ্ট করে লিখে দেওয়াই ছিল প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য। সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়তে পারে—এমন ১০টি দেশকে এতে সরাসরি চিহ্নিত করা হয়: চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান ও স্লোভাকিয়া।