ছবিঃ সংগৃহীত
মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ২৪তম ‘কাউড্রে লেকচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে; এবার বক্তৃতা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ২০০৮ সালে আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু এবং ২০২১ সালে স্টিফেন ফ্রাইয়ের পর তিনি তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন।
এমসিসির সদস্য, কাউড্রে পরিবারের সদস্যসহ বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় এ আয়োজন হয়। বক্তৃতাটি লর্ডসের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, দর্শকেরা সেখানেও তা উপভোগ করেন। সুনাক তার বক্তৃতায় যুক্তি তুলে ধরেন যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রিকেট হয়ে উঠতে পারে একটি শক্তিশালী শক্তি।
তিনি বলেন, আমরা কেবল পাশাপাশি থাকতে পারি না, আমাদের একসঙ্গে বাঁচতে হবে। আর এর মানে খেলাধুলার মাধ্যমেও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকা। ব্রিটেনের সফল বহুজাতিভিত্তিক গণতন্ত্র যে এখন ‘বাস্তব হুমকির’ মুখে রয়েছে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আহ্বান জানান ক্রিকেটকে ‘সত্যিকারের জাতীয় খেলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে। পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কর্মসূচি ও ‘ক্রিকেট ডোম’ (ইনডোর ক্রিকেট সুবিধা)-এর প্রতি নতুন করে সমর্থন দেওয়ারও তাগিদ দেন, যাতে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে পারে প্রতিটি খেলার মাঠের প্রতিটি শিশু।
ক্রিকেটের প্রতি নিজের আজীবন অনুরাগ আর নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে সুনাক বলেন, আজ সন্ধ্যায় আমি কোনো সাবেক খেলোয়াড়ের কর্তৃত্ব নিয়ে নয়, একজন আজীবন ভক্তের ভালোবাসা নিয়ে কথা বলছি। পরে তিনি স্মৃতিচারণ করেন কাউন্টি গ্রাউন্ডে প্রথমবার হ্যাম্পশায়ারের খেলা দেখার, ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার এবং বড় মেয়েকে নিয়ে লর্ডসে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার।
এমসিসির প্রেসিডেন্ট এড স্মিথ বলেন, ঋষি অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটের একজন উৎসাহী সমর্থক, আর তার চিন্তাশীল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এবারের কাউড্রে লেকচার দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় জীবনে ক্রিকেট কী ভূমিকা রাখে এবং মানুষকে এক করার ক্ষেত্রে খেলাটি কীভাবে সেতুবন্ধ হয়ে উঠতে পারে—এসব বিষয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।
সুনাকের বক্তৃতা শেষে এমসিসির চেয়ারম্যান মার্ক নিকোলাসের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন লন্ডন স্পিরিট ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রধান কোচ এবং ক্রিকেট বিষয়ক পরিচালক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও মো বোবাট। ক্রিকেটে নিজেদের শুরুর দিন, বিভিন্ন ভূমিকায় সাফল্যের গল্প, ‘দ্য হান্ড্রেড’ ও আইপিএলের মধ্যকার পার্থক্য এবং ‘লন্ডন স্পিরিট’ অভিযান—এসব বিষয়ে তারা নিজেদের ভাবনা জানান।
‘এমসিসি কাউড্রে লেকচার’ আয়োজন করা হয় লর্ড কাউড্রে অব টনব্রিজের স্মরণে। ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠা এ আয়োজনে সমকালীন ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে বিতর্ক ও আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই বক্তৃতামালার সূচনা হয় ২০০১ সালে, রিচি বেনোর হাত ধরে। ক্লাইভ লয়েড, ইমরান খান, কুমার সাঙ্গাকারা ও মাইক ব্রিয়ারলি অতীতে এ বক্তৃতা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন।