ছবিঃ সংগৃহীত
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে দীর্ঘদিনের পরিচিত দুই মুখ। দলের সাফল্যের জন্য প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করতে তারা সবসময়ই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুজনের মধ্যে সম্পর্কটাও বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ।
তবে প্যাট কামিন্স ভারতের বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে এ দুজনের কাউকে নয়, বেছে নিয়েছেন সাবেক ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারাকে। সাতটি প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে নিজের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ কারা, ‘প্রাইম ভিডিও স্পোর্ট এইউএনজেড’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই নামগুলো জানান অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
কামিন্স বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পরিকল্পিত বিরতিতে রয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চলছে, তাতে তিনি খেলছেন না। তিনি না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিচেল মার্শ। অন্যদিকে কামিন্স প্রস্তুতি নিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন মাল্টি-ফরম্যাট সফরের জন্য।
কামিন্স পূজারার ধৈর্য ও চাপ সামলানোর দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বোলারদের আউট করার সুযোগ ভারতের সাবেক এই তিন নম্বর ব্যাটার খুব কমই দিতেন। কামিন্সের ভাষায়, ‘ভারতের ক্ষেত্রে আমি পূজারার নামই বলব। তাকে আউট করা সত্যিই কঠিন। এটা অনেকটা “হাজারো ছোট আঘাতে মৃত্যুর” মতো। তিনি চাইলে অনায়াসে ১০০টি ডট বল খেলে ফেলতে পারেন। আপনাকে কোনো সুযোগই দেবেন না।’
ভারত ২০১৮-১৯ ও ২০২০-২১ মৌসুমে যে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল, সে সময় অস্ট্রেলিয়ার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পূজারা। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ সিরিজে সাত ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৭৪.৪২ গড়ে ৫২১ রান করেন তিনি, নির্বাচিত হন ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’।
সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পূজারা সফল; তবে ডানহাতি এই ব্যাটারের বিপক্ষে কামিন্সের ব্যক্তিগত রেকর্ডটা বেশ ভালো। অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার টেস্টে আটবার পূজারাকে আউট করেছেন।
কামিন্স বাকি ছয়টি প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেও কঠিন প্রতিপক্ষ কারা, তা জানিয়েছেন। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে তিনি বেছে নেন সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে; ১৬১ টেস্টে ৩৩টি সেঞ্চুরিসহ ৪৫.৩৫ গড়ে ১২,৪৭২ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন কুক।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কামিন্স বেছে নিয়েছেন সাবেক অফ-স্পিনার সাঈদ আজমলকে। একটি ম্যাচে আজমলের বলে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ার স্মৃতি তুলে ধরে পাকিস্তানি এই স্পিনারকে তিনি অনন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। ওভারের শেষ বলের মতো একটা পরিস্থিতি; আমি ক্রিজে এলাম, আজমল বল করল আর আমি ভাবলাম—কী হলো? ক্লিন বোল্ড! এমন কিছু আগে কখনো দেখিনি।’
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এবি ডি ভিলিয়ার্স আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ক্রিস গেইলকে বেছে নিয়েছেন কামিন্স; দুজনই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে তার সতীর্থ ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের রান ২০,০০০-এর বেশি, অন্যদিকে গেইল করেছেন ১৯,৫৯৩ রান ও ৪২টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।
নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার তিলকরত্নে দিলশানও জায়গা পেয়েছেন তালিকায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ম্যাককালাম করেছেন ১৪,৬৭৬ রান; আর ১৭,৬৭১ রান ও ৩৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন দিলশান।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী সপ্তাহে কামিন্সের আবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ‘হোয়াইট-বল’ (সীমিত ওভারের) ম্যাচগুলোতে আবারও নেতৃত্ব দেবেন তিনি; তবে সফরে সীমিত ওভারের সব ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা তার নেই।
সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোকে তিনি কাজে লাগাবেন টেস্ট সিরিজের আগে ম্যাচ-ফিটনেস ও বোলিং ওয়ার্কলোড গড়ে তোলার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের কঠিন টেস্ট সিরিজটিই।