শিক্ষায় এখনো সমান সুযোগ পাচ্ছে না দরিদ্র পরিবারের শিশুরা: ড. নাজনীন আহমেদ
ছবিঃ সংগৃহীত
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বেড়েছে, তবু সমান সুযোগ এখনো মিলছে না দরিদ্র পরিবারের শিশুদের। তিনি বলেন, কেবল প্রবেশাধিকার (এক্সেস) বৃদ্ধিতে লাভ নেই; অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে রূপ না নিলে শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে শনিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলের লা ভিটা হলে ‘সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপ হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন তিনি।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জেন্ডার সমতা সূচক অনুযায়ী শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো, তবে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে। মেয়েদের স্কুলে নিয়ে আসায় আমরা সফল; কিন্তু এখন বড় প্রশ্ন হলো, কর্মজীবনে সে শিক্ষা তাদের কতখানি কাজে আসছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমতা এসেছে, তবে ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যকার বৈষম্য আজও থেকে গেছে।
শিক্ষায় সমানভাবে অংশ নেওয়া দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পক্ষে এখনো সম্ভব হচ্ছে না—বিবিএসের তথ্য উল্লেখ করে এ কথা বলেন তিনি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সবাই স্কুলে যাচ্ছে—কেবল এটুকুতে কোনো লাভ নেই। আসল বিষয় হলো, তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া একটি শিশুর যে দক্ষতা অর্জিত হওয়ার কথা, তা সে অর্জন করছে কি না।
অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, জিপিএ শুধুই একটি সূচক, সন্তানের সক্ষমতার সম্পূর্ণ চিত্র তা নয়। পরীক্ষার ফলের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষাকে যুক্ত করতে হবে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বাস্তব দক্ষতার সঙ্গে।