ছবিঃ সংগৃহীত
আগামী মাসে ইউরোপ থেকে শুরু হচ্ছে মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের একক সংগীত সফর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার জেরে এড শিরানের কনসার্টের উদ্বোধনী পরিবেশকের ভূমিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি; এবার নিজেই ঘোষণা দিলেন কনসার্ট সফরের।
গ্র্যামিজয়ী এই শিল্পী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় জানিয়েছেন, সফরের সূচনা হবে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, ফ্রান্সের প্যারিস ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কনসার্টগুলোর তারিখ এবং অন্য শিল্পীদের নাম জানানো হবে পরে। তিনি এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, এই সফর থেকে আসা আয়ের একটি বড় অংশ দান করা হবে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে।
ম্যাকলমোর পোস্টে বলেন, গণহত্যার মতো পরিস্থিতিতে নীরব থাকার কিংবা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার অবকাশ এখন আর নেই। শিল্পীরা সচেতন হবেন, সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন—সারা বিশ্বের মানুষ এখন তাদের কাছে এটাই আশা করে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি তোলায় যখন কারও কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে, তখন মঞ্চকে নিছক বিনোদনের জায়গা হিসেবে রেখে দিলে চলবে না, সেটিকে করে তুলতে হবে প্রতিবাদের হাতিয়ার।
ম্যাকলমোর এর আগে নিউ জার্সিতে এড শিরানের কনসার্টে পরিবেশনার সময় মঞ্চে দাঁড়িয়েই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন। তার পরপরই সফরটির আরও আটটি নির্ধারিত শো থেকে বাদ পড়েন তিনি। যে স্টেডিয়ামগুলোতে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর মালিকপক্ষ আপত্তি তোলার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে দাবি ম্যাকলমোরের।
অন্যদিকে এড শিরান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার নিজের ছিল না, সেটি নিয়েছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়ায় এক অনুষ্ঠানে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে তিনি অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতায় এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে ম্যাকলমোর সোচ্চার রয়েছেন গত কয়েক বছর ধরেই। তিনি মনে করেন, মঞ্চে কার কণ্ঠ শোনা যাবে এবং কাকে সেন্সর করা হবে—তা যখন কোনো বড় ধনকুবের গোষ্ঠী ঠিক করে দেয়, তখন ব্যাপারটি আর কোনো একজন শিল্পী কিংবা একটি মঞ্চের মধ্যে আটকে থাকে না; প্রতিটি সাধারণ মানুষের জন্যই তা তখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।