সেবা নিতে নাগরিককে যেন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে না হয়: জহির উদ্দিন স্বপন
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমন একটি সমন্বিত ও সহজ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিককে একাধিক সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না।
আজ রবিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে’ শিরোনামের একটি সেশনে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, নাগরিকের প্রয়োজন ও ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো যেমন দরকার, তেমনি গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নাগরিক কোথায় দুর্বল এবং কোথায় ঝুঁকিতে আছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুসারে দ্রুত সাড়া দেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছানোর ওপর।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএসএস) গ্রহণের পর এর প্রথম ১০ বছর বাংলাদেশ এরই মধ্যে পেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, এ সময়ে পাওয়া অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নতুন কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)সহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি মনে করেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী হবে, তা নিয়েও নতুনভাবে চিন্তা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্র মানুষের মধ্যে দয়া বা করুণা বিলি করছে—বিষয়টি শুধু এমন নয়; বরং মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষা, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এর লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষার পরের ধাপে কোনো কর্মসূচি কতটা সফল, তা কেবল ব্যয় করা টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে যথেষ্ট হবে না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, ওই অর্থ মানুষের কাছে কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে উন্নত জীবন গড়তে মানুষের সক্ষমতায় কতখানি পরিবর্তন আনতে পারছে।
এখনকার সময়ে পরিবারগুলো কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা-ও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেড়ে চলেছে। এর পাশাপাশি পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে নগর দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, চিকিৎসা ব্যয়, বেকারত্ব এবং হঠাৎ আয় কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এসব ঝুঁকি সামাল দিতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও তথ্যনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। সে লক্ষ্যে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা যে প্রয়োজন, সে কথা তিনি তুলে ধরেন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের আয়োজন করেছে; সম্মেলনের স্লোগান ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (৩ অক্টোবর) সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
সিজিএস আয়োজিত এ বছরের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী। অংশ নিচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক এবং তরুণ নেতৃত্ব। সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপ্তি হওয়ার কথা।