সেশনজট ঠেকাতে কুবির ১৯ বিভাগে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ
ছবিঃ সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৯টি বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা যাতে ১৫ দিনের মধ্যে শুরু হয়, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানো, ঠিক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা এবং সেশনজট দূর করা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশনা পেয়েছে সব বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এ নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, নৃবিজ্ঞান, ইংরেজি, ফার্মেসি, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে। অবশিষ্ট বিভাগগুলোতেও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হবে বলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর জানিয়েছে।
জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পর ছয় মাসের মধ্যেই প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করার কথা। কিন্তু কয়েকটি বিভাগে কিছু শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনের কারণে এক মাস পরে ভর্তি হন, এতে সেসব বিভাগের ক্লাস শেষ হতে বিলম্ব ঘটে। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করার জন্যই উদ্যোগটি নেওয়া।
ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তাঁদের বিভাগের পরিকল্পনা ছিল একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে নভেম্বরের শুরুর দিকে ক্লাস শেষ করা; পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকেই। তিনি বলেন, কয়েকটি বিভাগে মাইগ্রেশনের কারণে পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়েছে, কিন্তু শেষ মাইগ্রেশনে তাঁদের বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী আসেননি বলে নির্ধারিত সময় ধরেই কার্যক্রম চালানো গেছে।
পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা আনার লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যক্রমগুলো একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, কঠোর মনিটরিং শুরু হচ্ছে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ থেকেই, যার উদ্দেশ্য একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ১৯টি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে।
তিনি জানান, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে রিপোর্টের মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়াটি মনিটরিং করা হবে; এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি, পরীক্ষা শুরু, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ রাখা হয়েছে—সম্ভব হলে তাঁরা যেন পরীক্ষার খাতা ১০ দিনের মধ্যে বিভাগে জমা দেন এবং ফলাফল প্রকাশ করেন আট সপ্তাহের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল জমা দিতে কোনো শিক্ষক যৌক্তিক কারণ ছাড়া ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে বেতন কর্তনসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে সেশনজট নিরসনের পথ খুঁজে বের করা; সে জন্য ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষকে পাইলট প্রকল্প ধরে চিহ্নিত করা হবে কোথায় সেশনজট তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একযোগে শুরু হচ্ছে ১৯টি বিভাগের ২০তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা—এ কথা বলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। তিনি বলেন, আটটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর, অবশিষ্ট বিভাগগুলোতেও তা শুরু হয়ে যাবে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে।
তিনি বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষা একযোগে শুরু করার উদ্দেশ্য হলো এই সেশনের কোনো বিভাগকে পিছিয়ে পড়তে না দেওয়া। এর ফলে এক-দুই মাসের ব্যবধানে স্নাতক শেষ করতে পারবেন এই ব্যাচের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
অন্য ব্যাচগুলোর সেশনজট নিয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিভাগ এখন পিছিয়ে আছে। ওই বিভাগগুলোর শিক্ষকদের ডেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করেন এবং ফল প্রকাশ করেন। উদ্যোগটির শুরু ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দিয়ে হলেও এই নীতি পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে অন্যান্য শিক্ষাবর্ষেও।