ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান। মেক্সিকোকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে চোখধাঁধানো এক গোল করে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি এই ইতিহাস গড়েছেন।
গোলটি আসে গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে, ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে। মেক্সিকোর গোলকিপার রাউল রাঙ্গেল সামনে এগিয়ে এসে সতীর্থের উদ্দেশে বল ছেড়েছিলেন। কাভান সেই বল ছিনিয়ে নেন এবং প্রায় চল্লিশ গজ দূর থেকে শট নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে তা জালে পাঠান।
গোলটির সময় কাভানের বয়স ছিল ১৭ বছর ৫ দিন; যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে এত কম বয়সে আর কেউ গোল করেননি। এর চার দিন আগে রেকর্ডটি নিজের নামে লিখিয়েছিলেন ম্যাথিস আলবার্ট।
আলবার্ট গোল পেয়েছিলেন মঙ্গলবার চিলির বিপক্ষে, তখন বয়স ছিল ১৭ বছর ১৩১ দিন। কাভান গোল করায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় আলবার্টের জায়গা এখন দ্বিতীয়। আলবার্টেরও আগে রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, যিনি গোল করেছিলেন ১৭ বছর ২৫৩ দিন বয়সে।
কাভানের জন্য এটি জাতীয় দলের জার্সিতে তৃতীয় ম্যাচ। অভিষেক হয়েছিল গত সপ্তাহে, আর সেই ম্যাচেই ফ্রেডি আদুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।
খেলা শেষে কাভান বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। তিন, চার, পাঁচ, ছয় বছর বয়স থেকেই আপনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেন। আমি এই মুহূর্তটি কল্পনা করেছি। শুধু আজকের কয়েক ঘণ্টা নয়, পুরো জীবনজুড়েই।’
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই মিডফিল্ডার যোগ করেন, ‘আমার পরিবার ও আমার জন্য এটি অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত। জাতীয় দলের হয়ে এমন সুযোগ পাওয়া সম্মানের। কোচরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, সুযোগ দিয়েছেন—এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
বল জালে ঢোকার আগ পর্যন্ত যে বেশ নার্ভাস ছিলেন, গোলের মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে সে কথা জানান সুলিভান। ‘আমি শুধু বলটা তুলে দিয়েছিলাম। আশা করছিলাম ক্রসবারে না লাগে কিংবা ওপর দিয়ে চলে না যায়। বলটা যখন বাতাসে ছিল, তখন নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এরপর কী হয়েছে, সেটাই যেন ঝাপসা।’
মেক্সিকোর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম গোলটিও এনে দেন আরেক কিশোর—১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল, যিনি প্রথমার্ধে জিও রেইনার বাড়ানো বল থেকে লক্ষ্যভেদ করেন। আর ৮৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের গোলে দলের জয় নিশ্চিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রীতি ম্যাচে এ নিয়ে টানা তিনটি জয় পেল, যার শুরু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে হারের পর। মরিসিও পচেত্তিনোর দল নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের ওপর ভর করে আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।