ছবিঃ সংগৃহীত
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৫ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২০ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছে টাইগাররা। শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
ক্রিজে আছেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম; নাঈমের রান ১৩, তাইজুলের ৫। এর আগে শুক্রবার টস জেতে বাংলাদেশ এবং ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। দারুণ শুরুর পরও প্রথম দিনের শেষটা স্বস্তিতে কাটেনি দলের। প্রথম সেশনে নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে ছিল—দুই ওপেনার গড়েন শতরানের জুটি, অর্ধশতকও পান দুজনই। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে আচমকা ব্যাটিং ধসে মাত্র ৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে গেলে বিপাকে পড়ে দলটি। এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান; টাইগাররা দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ৩১৭ রানে।
ইনিংসের শুরু থেকে সাবলীল ব্যাটিং উপহার দেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান। দুই ওপেনারের মধ্যে সাদমান ছিলেন খানিকটা সতর্ক, তানজিদ আক্রমণাত্মক। আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তানজিদ রান তুলেছেন দ্রুত; তাঁর অর্ধশতক আসে মাত্র ৪১ বলে। টেস্টে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতক ছাড়ানো ইনিংস। এর আগে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।
সাদমানও অন্য প্রান্তে একটু একটু করে নিজের ইনিংস লম্বা করেন। পাঁচ রানের সময় অবশ্য একবার ক্যাচ তুলেছিলেন তিনি; কাভারে আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি সেটি নিতে না পারায় জীবন পান। সেই জীবন কাজে লাগিয়েই তানজিদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উদ্বোধনী জুটিটি দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের এক শ রান আসে ১৮ ওভারেই, দুই ওপেনারের ব্যাটে। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের পর উদ্বোধনী জুটিতে আবার শতরান দেখল দল। সাদমান ও তানজিদ শেষ পর্যন্ত যোগ করেন ১২৪ রান। তানজিদের ঝোড়ো ইনিংসটি ছিল ৮৩ রানের, খেলেছেন মাত্র ৭১ বল; পুরো ইনিংসেই ছিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ছাপ। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও ইনিংসকে তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের দারুণ এক ক্যাচে শেষ হয় তাঁর ইনিংস।
তানজিদ আউট হলেও রান তোলার গতিতে তেমন ভাটা পড়েনি। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ ছিল বেশ ভালো অবস্থানে—১ উইকেটে ১৩৪ রান। সে সময় ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। ক্রিজে আসা মুমিনুল হকের নামের পাশে ছিল পাঁচ রান।
রান তোলায় দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ৬৭ রানে সাদমানের বিদায়ে বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। মোহাম্মদ সেলিম সাফির শর্ট বলটি ছিল বুকসমান উচ্চতার; পুল করতে গিয়ে এই ওপেনার বল মাটিতে রাখতে পারেননি। স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো জিয়া-উর-রহমান ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সাদমানও, কিন্তু তানজিদের মতো তাঁকেও ফিরতে হয় অর্ধশতকের পর।
পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনকে নিয়ে মুমিনুল হক পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ৩৯ রানে মুমিনুল ফিরে গেলে বাংলাদেশের ব্যাটিং দ্রুত ভেঙে পড়ে। মুমিনুল ক্যাচ দেন কাভারে, রহমত শাহর হাতে; বোলার ছিলেন ইয়ামিন আহমদজাই। অল্প সময় পর ওই বোলারই বোল্ড করে দেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে, যিনি কোনো রান করতে পারেননি—ফেরেন শূন্য রানে। তারপর স্পিনার কায়েস আহমেদের বলে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, তাঁর রান ২৯।
২ উইকেটে ২২১ রান থেকে মাত্র ৪ রান যোগ হতেই আরও তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২২৫ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় দল পড়ে বড় বিপদে। আফগান বোলারদের দারুণ প্রত্যাবর্তন এ সময়েই। পেসাররা লাইন-লেংথ ও গতি দিয়ে এবং স্পিনাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলেন। যে দলকে প্রথম সেশনে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল, দ্রুত উইকেট খুইয়ে তারাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণের অনেকটা প্রতিপক্ষকে দিয়ে দেয়।
এমন সময়ে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরতে চেষ্টা করেন। গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রান আসে দুজনের জুটি থেকে। ইনিংস বড় করা হয়নি মিরাজেরও—ইসমত আলমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাট ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে ২৪ রানে থামেন তিনি। এরপর দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ান লিটন।
বড় ইনিংসের জন্য লিটনের অপেক্ষা দীর্ঘদিনের। এদিন শুরুটা কিছুটা ধীরে করলেও পরে নিজের ছন্দ ফিরে পান তিনি। মোহাম্মদ সেলিম সাফিকে চার মেরে পৌঁছান অর্ধশতকে। আগের তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়ায় ফিফটিটি লিটনকে স্বস্তি দিয়েছে। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ টিকে থাকা হয়নি; সেলিম সাফির বলেই ক্যাচ তুলে দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান, সাজঘরে ফেরেন ৫৩ রানে।
লিটনের আউটে বাংলাদেশের ইনিংসের ওপর চাপ আরও বাড়ে। তিন শ রান পেরোলেও ইনিংস তখন কত দূর যাবে, সে নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শেষ বেলায় নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম উইকেটে টিকে থেকে দলের রান নিয়ে যান ৩১৭-তে। দুজনই দিন শেষে অপরাজিত, তাই দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের সামনে ইনিংস আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
প্রথম সেশনে সাদমান ও তানজিদ বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগালেও আফগানিস্তান ম্যাচে ফিরে আসে পরের দুই সেশনে। দিন শেষে সফরকারীরা স্বস্তিতে, কারণ বাংলাদেশের আট উইকেট তারা তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ চাইবে শেষ দুই উইকেট নিয়ে রান যতটা সম্ভব বাড়াতে, যাতে প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো একটি সংগ্রহ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন।
আফগানিস্তান একাদশ: আবদুল মালিক, সেদিকউল্লাহ আতাল, রহমত শাহ (অধিনায়ক), হাশমতউল্লাহ শহীদি, ইকরাম আলিখিল (উইকেটকিপার), জিয়া-উর-রহমান, শহিদুল্লাহ কামাল, ইয়ামিন আহমদজাই, কাইস আহমেদ, মোহাম্মদ সেলিম সাফি ও ইসমত আলম।