সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর, মালামাল লুটের অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরেই তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত স্টুডিওটিতে হামলার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, রাজধানীর নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত ওই স্টুডিওতে হামলা হয় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে। হামলাকালে ভাঙচুর করা হয় স্টুডিওর নানা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। স্টুডিওটির সঙ্গে সম্পৃক্তদের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগসহ কিছু মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খোয়া গেছে স্টুডিওতে থাকা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও। অবশ্য স্টুডিওর কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কেউ এতে আহত হননি।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর তিনি বিমানে ঢাকায় এসে স্টুডিওটি ঘুরে দেখেন, পরে ফেসবুক লাইভে ভাঙচুরের চিত্র দেখান। ওই ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর অবস্থার পাশাপাশি দেখা যায় ভাঙা আসবাবপত্র ও নানা সরঞ্জাম। সালমান জানান, বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম এবং কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ স্টুডিওতে রাখা ছিল। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা খোয়া যাওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক অঙ্ক জানাতে পারেননি।
সালমান ফেসবুক লাইভে বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের বহু গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ এবং অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০-৪০টি ক্লায়েন্টের কাজের উপকরণ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা খোয়া গিয়ে থাকে, তাহলে মোট ক্ষতির অঙ্ক সহজেই বড় আকার নিতে পারে।
সালমান তার স্টুডিওকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং সৃজনশীল কাজের জায়গা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জায়গাটির। তবে এ ঘটনার কারণে থেমে যাবেন না বলেও তিনি জানান। চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সালমান বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই হামলা হয়েছে তার স্টুডিওতে। তার দাবি, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত।
ভিডিওতে সালমানকে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও দেখিয়ে বলতে শোনা যায় যে তাদের স্টুডিওটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব বেশি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
কর্মীদের উদ্দেশে হামলার পর তিনি বলেন, এটি তেমন বড় কিছু নয়, সবাই যেন নির্ভার থাকেন; এখানেই তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। তার ভাষ্য, এ প্রকল্পে কাজের সূত্রে বহু তরুণ-তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাই-বোনের মতো হয়ে উঠেছে; তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল স্টুডিওটি। সালমান বলেন, তিনি থেমে থাকবেন না, চালিয়ে যাবেন নিজের প্যাশন—দেশ থেকে তা সম্ভব না হলে দেশের বাইরে থেকেই।
স্টুডিওটি গড়ে তোলার পেছনে স্ত্রী, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন সালমান। তিনি জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে তার স্ত্রী নিয়মিত এসে সেখানে তদারকি করতেন; সহকর্মীদের অনেকে আবার স্টুডিওর নিরাপত্তার কাজ করেছেন রাত জেগে। হামলার কারণে ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এর চেয়েও বড় কিছু করবেন। স্বাভাবিক হয়ে কাজে ফিরতে কর্মীদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান।
সালমান ফেসবুক লাইভে আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য তিনি বিশেষভাবে ভিডিওটি বানিয়েছেন। মন্ত্রীকে তিনি কোনো দুশ্চিন্তা করতে মানা করেন, কারণ তার ভাষায় এমন ঘটনা বাংলাদেশে স্বাভাবিক।
পরে তিনি বলেন, জায়গাটি যে তার, হামলাকারীরা হয়তো তা জানত না। তিনি এর মধ্যে পড়েছেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই। তার ভাষ্য, সেখানকার জমির মালিকের সম্ভবত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ রয়েছে এবং তার সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কিছু একটা ঘটেছে। তারা পড়ে গেছেন সেই প্রতিশোধের মাঝখানে—ওই জমির মালিকের সম্পত্তির ক্ষতি করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে তার সম্পত্তিও।
সালমান মুক্তাদির হামলার এ ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে কত, হামলাকারীরা কারা এবং ঘটনার পেছনে কী কারণ—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো মেলেনি।