কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী তিন দফা অভিযানে আটক ১ হাজার ২৯৩
ছবিঃ সংগৃহীত
তিন দফায় মোট ১ হাজার ২৯৩ জন আটক হয়েছেন পুলিশের হাতে; জেলায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সমন্বিতভাবে জেলার ১৮টি থানায় সর্বশেষ অভিযানটি চালায় গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত; মোট আটকের মধ্যে ৪১৫ জন আটক হয়েছেন এ অভিযানেই।
অভিযানের এই তথ্য বাসসকে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার অভিযান হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে, তাতে আটক হন ৬২৪ জন। দ্বিতীয় দফায় শনিবার রাতে আটক করা হয় ২৫৪ জনকে। এর সঙ্গে সর্বশেষ অভিযানের ৪১৫ জন যোগ হয়ে তিন দফা মিলিয়ে আটকের সংখ্যা এখন ১ হাজার ২৯৩।
মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে প্রথম দফায় আটক ৬২৪ জনের ৪৫১ জনকে; অবশিষ্ট ১৭৩ জনের বেলায় বিভিন্ন অভিযোগে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। দ্বিতীয় দফায় আটক ২৫৪ জনের মধ্য থেকে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকার ভিত্তিতে তুলে দেওয়া হয় পরিবারের জিম্মায়। আর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অন্য ১০৮ জনের বিরুদ্ধে; তাঁদের ক্ষেত্রে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন বিষয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে যাঁরা আটক হয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষ হলে তাঁদের মধ্যে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাসসকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমানের ভাষ্য, ‘কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসছে। পুলিশ সুপার বলেন, আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে জড়িত কারা, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে; তা শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হচ্ছে, যাতে উঠতি বয়সী কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।
কিশোররা যাতে অপরাধে না জড়ায়, সে লক্ষ্যে এমন অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।