প্যারিস সফরে মাখোঁর সঙ্গে বসছেন মিলেই, লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ
ছবিঃ সংগৃহীত
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে প্যারিস সফরকালে বৈঠকে বসবেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে—এমনটাই জানা গেছে।
রোববার দেশটির সরকার জানিয়েছে, আর্জেন্টিনায় বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি ফোরামেও এ সফরে যোগ দেবেন তিনি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে যখন স্থবিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তেমন এক সময়েই এ সফর হচ্ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৬ শতাংশ কমেছে আগের তিন মাসের তুলনায়।
এর এক সপ্তাহ আগে ইউরোপের সমালোচনা করেছিলেন মিলে। তিনি বলেছিলেন, অভিবাসন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও তথাকথিত ‘ওয়োক’ চিন্তাধারার কারণে কার্যত এসবের কাছে পরাধীন হয়ে পড়েছে ইউরোপ।
তাঁর মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গও তিনি তোলেন ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এলসিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। মিলে বলেন, তাঁর মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউরোপীয়রা অপছন্দ করেন; কারণ ইউরোপ কীভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প ‘সত্য কথা’ বলেন।
কট্টরপন্থী উদারনৈতিক এই প্রেসিডেন্ট নিজেকে ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন। বৃহস্পতিবার তিনি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থায় (ওইসিডি) বক্তব্য দেবেন। সরকারের প্রকাশিত সফরসূচিতে জানানো হয়েছে, ওই দিনই পরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।
মঙ্গলবার প্যারিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মিলে; সেখানে একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘আর্জেন্টিনা উইক’ নামের এই বিনিয়োগ ফোরাম।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় এসে মিলে সরকারি ব্যয় বড় আকারে কাটছাঁট করেন। এর ফলে বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জনে সক্ষম হয়েছে তাঁর সরকার; নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে একসময় তিন অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতিও। বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে টানা তিন বছর ধরে চলা কৃচ্ছ্রসাধন, অর্থাৎ সরকারি ব্যয় কমানোর নীতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতির শিল্প খাত, কর্মসংস্থান ও মানুষের ভোগব্যয়।