এশিয়ান গেমসে চীনের নতুন শক্তি কিশোর অ্যাথলেটরা
ছবিঃ সংগৃহীত
১২ বছর বয়সী স্কেটবোর্ডার ছাও শিকি এবারের আসরে যে সাফল্য পেয়েছেন, তা চীনের একটি ব্যবস্থারই দৃষ্টান্ত। এশিয়ান গেমসে দেশটির দীর্ঘদিনের আধিপত্যে কেবল সরকারি বিনিয়োগই নয়, বড় ভূমিকা রাখছে পরিবার, স্কুল ও ক্রীড়া ফেডারেশনের সমন্বিত উদ্যোগও।
শিকি এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশগ্রহণেই উইমেন’স পার্ক ইভেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নেন। চূড়ান্ত ফলে তিনি চতুর্থ হয়েছেন, তবে বড় মঞ্চে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা নজর কেড়েছে। এই আসরে চীনের যে ৮১৫ জন অ্যাথলেট রয়েছেন, তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনিই।
শিকির পাশাপাশি আছেন ১৩ বছর বয়সী ইউ জিডি, যার ঝুলিতে গেছে তিনটি সোনা। ১৫ বছর বয়সী ঝু ইউয়ানলিং সোনা জিতেছেন স্কেটবোর্ডিংয়ের উইমেন’স স্ট্রিট ইভেন্টে। চীনকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন কিশোর বয়সী আরও কয়েকজন অ্যাথলেটও।
চীন এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশ নেয় ১৯৭৪ সালে, তারপর ক্রমে সেখানে নিজেদের আধিপত্য গড়ে তোলে। পদক তালিকার শীর্ষে তারা প্রথমবার ওঠে ১৯৮২ সালে; এরপর টানা ১১ আসরে দলগতভাবে সেরা হয়েছে। এক আসরে ৪১৫টি পদক জেতার রেকর্ডটিও দেশটির, যা তারা গড়ে ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে।
চলতি আসরেও পদক তালিকায় চীন অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির সংগ্রহ মোট ২৫৪টি পদক, যার ১৪৩টি সোনা, ৬২টি রুপা ও ৪৯টি ব্রোঞ্জ।
শিনহুয়ার সাংবাদিক গাও পেং মনে করেন, অবকাঠামো খাতে সরকারের বিনিয়োগ যেমন, তেমনি পরিবার, স্কুল ও ফেডারেশনের ভূমিকাও চীনের ক্রীড়া সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ। এখন বহু তরুণ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন পরিবারের সহায়তা নিয়ে; পরে তাদের মধ্যে যারা প্রতিভাবান, ফেডারেশন তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণ, কোচিং ও চিকিৎসা সহায়তা জোগাচ্ছে।
শিকি স্কেটবোর্ড হাতে তুলে নিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। পরিবার ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে তিনিও একটু একটু করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছান, আর এবার জায়গা পেয়েছেন এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। চীনের আগামী দিনের ক্রীড়া সাফল্যের ভিত গড়ছেন তার মতো নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটরাই।