ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র, আর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ওই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মার্কিন বোমারু বিমান।
কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, বোমারু বিমানগুলো সরানোর কাজ শুরু হয় জরুরি ভিত্তিতে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হয়েছে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা বি-১ বোমারু বিমানগুলো।
পেন্টাগনের মুখপাত্র আল জাজিরাকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে। তবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে, সেটি এখন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মুখপাত্রটি আরও বলেন, যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বি-১, বি-২ ও বি-৫২সহ মার্কিন বোমারু বহরের বিমানসেনারা। দরকার হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই উড্ডয়ন ও অবতরণ করে এসব বিমান অভিযান চালাতে পারে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি; তখন থেকেই বোমারু বিমানগুলোর ট্রানজিট ঘাঁটি হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছিল আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে। সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসা এই সামরিক ঘাঁটির অবস্থান লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক স্থাপনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে এর আগে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাজ্যের পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। কথিত ওই চক্রান্তে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনার কথা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তেহরান অবশ্য এমন কোনো পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবে ওই পাঁচজন আটকের পরদিনই ছাড়া পান, কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের ব্যবহৃত একটি ভ্যানে পেট্রোল পেলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইসের সন্ধান পাননি তদন্তকারীরা। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলমান।
এরই মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে লন্ডন থেকে গ্রেপ্তারের কথা গত বৃহস্পতিবার জানায় যুক্তরাজ্যের পুলিশ। ফেয়ারফোর্ডে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কথিত ওই চক্রান্তে যে ইরানের ভূমিকা ছিল, গত সপ্তাহে তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি প্রকাশ করেননি।