বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তা
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে দেশের নানা উপজেলা ও থানায় পাঠাতে নির্দেশ জারি হয়েছে। উদ্দেশ্য—মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ।
আগস্ট মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাসিক সমন্বয় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে নির্দেশটি এসেছে। কোন কর্মকর্তার জন্য কোন উপজেলা বা থানা নির্ধারিত, সেই তালিকা নামের পাশে উল্লেখ করে প্রকাশ করা হয়েছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া অফিস আদেশে।
অফিস আদেশটিতে গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাক্ষর করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাসুদ হোসেন।
আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত এলাকার সরেজমিন পরিদর্শন শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে কর্মকর্তাদের—এমন নির্দেশনা রয়েছে আদেশে।
মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালকসহ অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য দেশের যেকোনো উপজেলা পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে অফিস আদেশে।
পাশাপাশি নির্দিষ্ট উপজেলা ও থানায় পাঠাতে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি তালিকাও তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা এতে স্থান পেয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ।
কর্মস্থল ছাড়ার আগে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ বিভাগের পরিচালকের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ আছে। আর পরিচালকরা নিজেদের আওতাধীন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে যেতে পর্যায়ক্রমে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি দেবেন।
আদেশ অনুযায়ী, নামের পাশে যে উপজেলা বা থানার উল্লেখ রয়েছে, সেখানকার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট এলাকার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাবেন উপবৃত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা। নির্ধারিত ট্যুর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁরা এ পরিদর্শন করবেন।
বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলো বাছাই করতে হবে—একটি শহরের, দুটি গ্রামের। পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে থাকতে হবে দুই দিন।
অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাকি বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত উপজেলা বা থানায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে দুটি।
বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া এ দুই বিদ্যালয়ের একটি হবে শহরের, অন্যটি গ্রামীণ। সেখানে সরেজমিনে এক দিন থেকে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের পর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে নির্ধারিত ছকে। পরিদর্শন শেষ হওয়ার পরের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তা জমা পড়তে হবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগে।
টিএ/ডিএ বিলের সঙ্গে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রমাণক কপি জুড়ে দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রচলিত বিধি-বিধান মেনে কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতন খাত থেকে টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যাঁরা অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত, সেই কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ বিল নিতে হবে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।