শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
ছবিঃ সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা করা হয় ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বুধবার (৭ অক্টোবর) এ নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে; প্যানেলটির নেতৃত্বে আছেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের জন্য ৭ অক্টোবর তারিখটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করেছিলেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর। সে অনুযায়ীই আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত ২৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ট্রাইব্যুনাল ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন সেই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য, যা করা হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগে।
ওই দিনের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামি পলাতক, আর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে পলাতক এই আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরুর পাশাপাশি তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার আরজি পেশ করা হয়। সেই আরজি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় গ্রেফতার ১১ আসামিকে। এই আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।
ওই ঘটনার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয় গত ২৭ জুলাই; দাখিলের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেটি আমলে নেন।
এ মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
আসামির তালিকায় আরও নাম রয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যেসব সদস্য এ মামলার আসামি, তাঁরা হলেন—সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।
প্রসিকিউশন জানাচ্ছে, হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকাসহ চারটি স্থানে প্রাণ হারান ৫৮ জন। তদন্ত সংস্থা তাঁদের মধ্যে ঢাকায় নিহত ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে।