শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের পাঠ দিল বিআরটিএ, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুলে কর্মশালা
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলের উদ্যোগে রাজধানীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকানো এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক ব্যবহারে আরও সচেতন করে তোলাই ছিল এর লক্ষ্য।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ ঘিরে মাসজুড়ে চলা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এতে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, কীভাবে নিরাপদে রাস্তা পার হতে হয়, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিং কীভাবে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে হয়, গণপরিবহনের যাত্রী হিসেবে কী কী করণীয় এবং চালক ও পথচারীর দায়িত্ব-কর্তব্য কী।
বক্তারা মত দেন, দুর্ঘটনা কমাতে কেবল চালকের সচেতনতাই যথেষ্ট নয়; যাত্রী ও পথচারীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। ট্রাফিক আইন মানা, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ আর সড়ক ব্যবহারকারী সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরির ওপর জোর দেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নিরাপদ সড়ক কেবল অবকাঠামো তৈরি কিংবা আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়, বরং সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের সম্মিলিত ফল। আজ যে শিক্ষার্থীরা সচেতন, তারাই ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নাগরিক। সে কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা গেলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক বদল আনা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।
সড়কের নিরাপদ ব্যবহার এবং সচেতনতা নিয়ে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবহন বিশ্লেষক ও রোড সেফটি অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক পার্থ সারথি দাস। গুলশান ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. কামাল উদ্দিন কথা বলেন ট্রাফিক সাইন ও সংকেত নিয়ে।
সড়ক নিরাপত্তা কেন জরুরি, দুর্ঘটনা কেন ঘটে এবং তার প্রতিকার কী—এসব বিষয়ে আরও কথা বলেন বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) তন্ময় কুমার ধর এবং বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরাও কর্মশালায় তাদের চিন্তা ও মতামত জানায়। এ ছাড়া বিআরটিএর পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করা হয় এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভিডিও দেখানো হয়।