তেলের দাম ও সরবরাহ সংকটে চীনে উৎপাদক মূল্য ৫ শতাংশ বেড়েছে, ভোক্তা মূল্যস্ফীতি মাত্র ০.৯
ছবিঃ সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক কম থাকলেও সেপ্টেম্বরে চীনে উৎপাদন পর্যায়ে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়া এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে কারখানা থেকে পণ্য সরবরাহ পর্যায়ের দাম আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে।
২০২২ সালের মাঝামাঝির পর এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার।
অর্থনীতিবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে করা ব্লুমবার্গের এক জরিপে এ হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস ছিল।
আগস্টে উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ; অর্থাৎ এক মাসেই দাম বাড়ার গতি আরও বেড়েছে।
টানা তিন বছর উৎপাদক পর্যায়ে দাম কমার পর গত মার্চ থেকে চীনের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও কাঁচামালের খরচ বেড়েছে।
তার প্রভাবে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ নগুয়েন হোয়াং নামের ভাষ্য, ‘বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত প্রসার ও মেমোরি চিপের ঘাটতির কারণে ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও দ্রুত বেড়েছে।’
তবে এক বিশ্লেষণী নোটে তিনি লেখেন, ‘ভোক্তাপণ্যের অন্যান্য শ্রেণিতে এখনো দাম কমছে। এতে বোঝা যায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা সামগ্রিক মূল্যচাপ কমিয়ে রাখছে।’
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই প্রবৃদ্ধির পথে বাধা। ভোক্তাব্যয় বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
সেপ্টেম্বরে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ; আগস্টে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। ব্লুমবার্গের জরিপে অবশ্য সেপ্টেম্বরে ১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) সরকারের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়ে গেছে।
এই সময়ে কয়েক দফায় মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মকও হয়েছে, অর্থাৎ পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম কমেছে।
অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় দুর্বল থাকায় বার্ষিক ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে চীন ভরসা রাখছে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে।
এরপর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের জন্য চীনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।