ছবিঃ সংগৃহীত
সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানাসহ প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। শিক্ষা ব্যয় ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিবিসি জানায়, তিরানায় কয়েক মাস ধরে চলা ‘ফ্লেমিঙ্গো’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই নতুন এই বিক্ষোভের সূচনা। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। শিক্ষা ফি ও বইয়ের দাম কমানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই ছিল বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি।
একপর্যায়ে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করলে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে জবাব দেয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ভাঙা পা নিয়ে যন্ত্রণাকাতর এক তরুণকে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়; পরে ক্ষমা প্রকাশ করা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তলায় আগুন দেওয়া হয়, অগ্নিসংযোগের খবর মেলে অন্যান্য সরকারি স্থাপনাতেও।
ফ্লেমিঙ্গো আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল আলবেনিয়ার আড্রিয়াটিক উপকূলে একটি বিশাল পর্যটন প্রকল্পের পরিকল্পনাকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পের কারণে ভ্লোরা উপকূলের কাছের একটি দ্বীপে ফ্লেমিঙ্গো পাখির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। টানা প্রায় ১৪০ দিন ধরে গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় গোলাপি ফ্লেমিঙ্গোর ছবি হাতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।
আন্দোলনের ক্ষোভ অবশ্য কেবল পরিবেশগত উদ্বেগে আটকে নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগও জন-অসন্তোষ বাড়িয়েছে। তদন্ত চলাকালে একজন উপপ্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়েছেন, আরেকজনকে পদ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পাঁচ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেও সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া তাঁরা পাননি। লিভিয়া নামের এক তরুণী বলেন, তাঁদের প্রতিবাদের জবাবে অপমান ও উপহাস করা হয়েছে। ব্রুনেলা নামের আরেক তরুণী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর নয়, বরং আলবেনিয়ার তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ।
সহিংসতার জন্য প্রধানমন্ত্রী রামা দায়ী করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালি বেরিশাকে। তবে বিক্ষোভের পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। পদত্যাগের দাবি নাকচ করে রামা জানিয়েছেন, বৈধ উদ্বেগের বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদপ্রত্যাশী দেশ আলবেনিয়ার পরিস্থিতির দিকে এখন ইউরোপের নজর রয়েছে। দেশটিতে পর্যটকদের ভ্রমণ আপাতত পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারকে। চলমান সহিংসতা দেশটির পর্যটনশিল্প ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।