স্থানীয় সমস্যার টেকসই সমাধানে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবের পাশে থাকবে সরকার: ববি হাজ্জাজ
ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় নানা সমস্যা খুঁজে বের করে তার বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান দিতে শিক্ষার্থীরা যে উদ্ভাবনী ভাবনা ও সৃজনশীল প্রস্তাব নিয়ে আসবে, তাতে সরকারের সহযোগিতা থাকবে। এমন আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যিনি ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্যও।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শনিবার ‘গভর্নেন্স সলিউশনস কম্পিটিশন’-এর একটি বিশেষ কর্মশালা হয়। ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা আর নতুন ভাবনাকে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে, পাশাপাশি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণেও তাদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
শুধু বড় বড় সমস্যার কথা বললে চলবে না—শিক্ষার্থীদের এমনটা মনে করিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, বেছে নিতে হবে এমন সমস্যা, যার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান তারা নিজেরাই প্রস্তাব করতে পারবে। সমস্যাটি কত বড়, কারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত, প্রভাব কতটা গভীর—এসব তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরতে হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার, সংবাদ প্রতিবেদন আর নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য এ কাজে লাগানো যায়। দরকার হলে সহায়ক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলও ব্যবহার করা চলবে।
সমাধান প্রস্তাবে বাস্তবায়নযোগ্যতার ওপর জোর দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেই একটি সমাধান ভালো হয় না; বাস্তবে তা চালু করা যাবে কি না, সেটাও ভাবতে হবে। কোন কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সহযোগিতা লাগবে, কারা যুক্ত থাকবেন, কী ধরনের জনবল, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ দরকার—প্রস্তাবে এসব পরিষ্কার করে লিখতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি স্কুলের সামনের যানজট নিয়ন্ত্রণ আর এলাকার খাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ টানেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, যেকোনো সমস্যায় সাময়িক উদ্যোগের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা চাই। একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেই দায় শেষ হয় না। মানুষকে সচেতন করতে হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধান তৈরির সময় আইনগত, প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্ব কার কাঁধে, সেটি চিহ্নিত করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মতি আর প্রয়োজনীয় সম্পদের জোগান না থাকলে কোনো উদ্যোগ বেশি দিন টেকে না। সে কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবে বাস্তবতা, কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
এটি প্রচলিত ধাঁচের কোনো প্রতিযোগিতা নয় বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্যে, নিজেদের চিন্তা ও প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া কাছ থেকে বোঝার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নির্বাচিত তিনটি দল প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে; প্রস্তাবের বিষয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট হলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সংসদকেও যুক্ত করা হবে।
প্রতিযোগিতার ধাপগুলোও জানান তিনি। অংশ নেওয়া ১২৪টি দলকে প্রথমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা মূল্যায়ন করবেন সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল। সেখান থেকে বাছাই হওয়া সেরা পাঁচটি দল জাতীয় পর্যায়ের দর্শক ও অতিথিদের সামনে ১৫ মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত উপস্থাপনা দেখে ঠিক করা হবে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ দল।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি চাই, ঢাকা-১৩-এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা সঠিকভাবে কাজে লাগুক। আমরা পুরো দেশকে দেখাতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তাদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।’
কর্মশালায় প্রতিযোগিতার বিচারক, আয়োজক দলের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ছিলেন।
প্রেক্ষাপট
প্রথম আলোর (ইংরেজি সংস্করণ) ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদের মন্ত্রিসভার সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শপথ নেন; ওই তালিকায় ববি হাজ্জাজের নাম ছিল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
ডেইলি অবজারভারের ১৬ জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদন বলছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জাতীয় শিক্ষা পুরস্কার প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি; সেখানে তিনি বলেছিলেন, দেশে মেধাবী শিক্ষার্থী অনেক, কিন্তু তাদের দক্ষতা বিকাশের পরিবেশে ঘাটতি রয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো (ইংরেজি), ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ডেইলি অবজারভার, ১৬ জুন ২০২৬