দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি
ছবিঃ সংগৃহীত
দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতা ও প্রভাব আমলে না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে; সে সময় এ নির্দেশ আসে। রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীর প্রভাব যত বেশিই থাকুক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে।

ছবি: পিআইডি
বৈঠকে দুদকের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে জানান তাদের বর্তমান কার্যক্রম ও চলমান নানা উদ্যোগের কথা; সেই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলোও তুলে ধরেন। দুর্নীতি দমনের কাজে কমিশনকে আরও কার্যকর করে তুলতে রাষ্ট্রপতির সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশাও জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহির অভাব বছরের পর বছর চলতে থাকায় দুর্নীতি আজ বাংলাদেশের প্রধান সংকটগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ওপরই দেশের অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে— এ কথা উল্লেখ করে দুদককে তিনি পূর্ণ সাহসিকতা ও সততা নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি তাগিদ দেন, অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে এমন বিপুল সংখ্যক মামলার আইনি প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শেষ করার মধ্য দিয়ে যেন দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা হয়। বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের বেলায় দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পরামর্শ, জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে প্রচারণামূলক ও জনসচেতনতার কাজ আরও বাড়াতে হবে। আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে কমিশন সার্বিক সহযোগিতা পাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে সাক্ষাতে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরাও তখন সেখানে হাজির ছিলেন।