ডেঙ্গু মোকাবিলায় গাজীপুরে তিন মাসের মধ্যে সব ধরনের বর্জ্য পরিষ্কার করার ঘোষণা
ছবিঃ সংগৃহীত
গাজীপুরে শনিবার থেকে বড় পরিসরের একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু হয়েছে, যার লক্ষ্য ডেঙ্গু মোকাবিলা ও পরিবেশ সুন্দর রাখা। নগরীর শ্মশান মন্দির, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যৌথ প্রচেষ্টায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে চলা এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে পরিষ্কার ও বাসযোগ্য রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে।
সেই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের অভিযানটিতে যোগ দেন নানা পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ, যাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যরা। রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড়ে দীর্ঘদিনের জমা আবর্জনা তাঁরা স্থানীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তা নিয়ে পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হয় এডিস মশার উৎপত্তিস্থল, নেওয়া হয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপও।
কার্যক্রমে যোগ দেওয়া গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বার্তা সংস্থা বাসস-কে জানান, জেলার আনাচে-কানাচে যত বর্জ্য জমে আছে, তার সবই আগামী তিন মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে। সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা না গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।
নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যোগ দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়াসহ মহানগর ও জেলার নানা স্তরের কর্মকর্তারাও সেখানে হাজির ছিলেন।
স্থানীয় জনগণ বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, পরিষ্কার ও বাসযোগ্য একটি গাজীপুর গড়তে হলে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়েও সচেতন হওয়া দরকার।