
১৩ লাখ রোহিঙ্গার চাপ তুলে ধরে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি থেকে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।
লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের একটি যৌথ ঘোষণা এসেছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে; বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকারও বদলায়নি। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা জানান লিউ হাইশিং।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ জায়গা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে দেওয়া এখন তাঁদের দায়িত্ব।
নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগোবে বলে আশা করেন তিনি।
তারেক রহমান জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং কৃষির উন্নয়নে বড় অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন, পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয় দুই পক্ষ।
লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করতে আগ্রহী চীন। বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও কথা হয়। রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থনের কথাও জানান লিউ হাইশিং।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথা তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চান তিনি।
জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে চীন অবগত। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন।
চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাতের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্রেক্ষাপট
প্রথম আলোর ২৬ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার দিনের সরকারি সফরে চীনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ জুন বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন; আগের দিন দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক এবং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে পৃথক একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
ডেইলি অবজারভারের ২৯ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পরও একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফেরেনি। মিয়ানমারের জান্তা প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানালেও যথাযথ নিশ্চয়তা ছাড়া তাতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গারা।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ জুন ২০২৬; দ্য ডেইলি অবজারভার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
