
১৭ বছর পলাতক থাকার পর চট্টগ্রামে ধরা পড়লেন খুলনার জাহাঙ্গীর হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
ছবিঃ সংগৃহীত
খুলনার চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জসিমকে (৫০) ১৭ বছর পর গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৭-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন সলিমপুর এলাকা থেকে তাঁকে ধরে। আজ শুক্রবার এসআরবি খুলনার এক বিজ্ঞপ্তিতে খবরটি জানানো হয়।
জসিম খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার হাজী তমিজউদ্দীন সড়ক বাইলেন এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। হত্যা মামলায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।
এসআরবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে জসিম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং নিহত জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।
জাহাঙ্গীরের বাড়ির পাশের এক দোকানদারের হারানো মুঠোফোন উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে জসিম ৮০০ টাকা নেন। কিন্তু ফোন বা টাকা কোনোটাই ফেরত না দেওয়ায় একই বছরের ১৯ মে সকালে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক বসে।
সালিসে জসিমের চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তাঁকে ফোন ও টাকা ফেরত দিতে বলা হয়, আর জাহাঙ্গীর তাঁকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন।
সালিসের জেরে সেদিন বিকেলেই জাহাঙ্গীরের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জসিম তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসআরবি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলার প্রেক্ষিত
খবর সংযোগের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জয়নাল সরদারকে ২৭ বছর পর গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৮।
এক নজরে
এসআরবি হলো স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। দৈনিক ইনকিলাবের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাহিনীটির পূর্ণ নাম উল্লেখ করে জানানো হয়, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলাতক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকেও তারা গ্রেফতার করেছিল।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: খবর সংযোগ, সেপ্টেম্বর ২০২৬; দৈনিক ইনকিলাব, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
