তুরাগে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ
ছবিঃ সংগৃহীত
তুরাগ নদ থেকে নৌ পুলিশ যে মরদেহটি উদ্ধার করেছে, সেটি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির। নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই তাঁর মরদেহের সন্ধান মিলল।
উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ খবর জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এরপর সেটি পাঠানো হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
উদ্ধারের সময় ও স্থান সম্পর্কে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর আসার পর বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টায় তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় মরদেহটির পরিচয় জানা ছিল না; সে অবস্থাতেই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। গায়ে ছিল কালো জামা ও সাদা পাজামা, মুখে হালকা দাড়ি। হাতে একটি ঘড়ি ছিল, আর পকেট থেকে পাওয়া যায় একটি আইফোন। ওই আইফোনের সূত্র ধরেই জানা যায়, তিনি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তাঁর বাসা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়োজাহাজে চড়ে দেশ ছাড়ার যে ভিডিও, সেটি তাহসিফই ধারণ করেছিলেন — এমন আলোচনা রয়েছে। এর পরে ওই বছরের ২৮ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে তাহসিফ এবং বিমানবাহিনীর আর চার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
তবে এসব তথ্য যাচাই করার মতো কোনো নিরপেক্ষ সূত্র মেলেনি।
প্রেক্ষাপট
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, কে এম তাহসিফ সৌরি ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন — মানবজমিন ও সময়ের আলো ২৯ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে। দৈনিক আদিনের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের বরাতে মানবজমিন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে; মৃত্যুর কারণ নিয়ে পুলিশ সুপারও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিউজ বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবির সত্যতা নৌ পুলিশ নিশ্চিত করেনি, আর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাকরি থেকে বিদায়ের ধরন নিয়ে সূত্রভেদে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। মূল প্রতিবেদনে তাহসিফকে চাকরিচ্যুত বলা হয়েছে; অন্যদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট জানিয়েছিল, তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং কোনো অভিযোগ ছাড়াই অবসর দেওয়া হয় — খবর সংযোগ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
বয়স নিয়েও সূত্রভেদে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। নৌ পুলিশের সুরতহালে তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর ধরা হলেও দৈনিক আদিন ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৩৩ বছর উল্লেখ করেছে।