স্কুলে জাপানিসহ তৃতীয় ভাষা, উপজেলা হাসপাতালে ১৫০ শয্যা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী—প্রবাসীদের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে থাকুন বা বিদেশে—দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা গেলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।
আজ সন্ধ্যায় টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’ প্রবাসীরা নিজেদের নানা সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন; জবাবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্কুলে তৃতীয় ভাষা
প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষাব্যবস্থা মজবুত করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিতে জোর দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি এবং আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।’ পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে আটকে না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দিতে চায় সরকার; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাতেও গুরুত্ব থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিদেশি ভাষার পাশাপাশি খেলা ও সংস্কৃতিতে দক্ষ হলে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা আর চাকরিতে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে।
উপজেলায় ১৫০ শয্যা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী
স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে জাপানের সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সরকারের বড় অগ্রাধিকার, বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য। এখন উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা আছে; আগামী পাঁচ বছরে তা ১৫০-এ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলায় ডায়ালাইসিস চালু এবং নারী-শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে, যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে না হয়। তাঁর মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা জোরদার হলে বড় হাসপাতালগুলোর ভিড় কমবে, গুরুতর রোগীর চিকিৎসাও সহজ হবে।
রোগ সারানোর পাশাপাশি প্রতিরোধে জোর দিতে গ্রাম পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন।’ মানুষ সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলে রোগ কমবে, চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে বলে মনে করেন তিনি।
জাপানের শ্রমবাজার
জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাদক্ষতা ও কাজের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানকার শ্রমবাজারে অবস্থান পোক্ত করতে দক্ষ জনশক্তি দরকার। ‘কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।’
জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জন্য তাঁদেরও আগ্রহ থাকতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিলেও প্রত্যাশার চেয়ে কম আবেদন এসেছে। তাঁর পরামর্শ, ‘জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।’
শেষে তিনি বলেন, ‘প্রবাসে অবস্থান করলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’ অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সম্মিলিত চেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস