অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি ডেপুটি স্পিকারের
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ভুলত্রুটি শুধরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম আবার নতুনভাবে চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ কার্যক্রমে যে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি ছিল, সে কথাও স্বীকার করেন তিনি।
তিনি মনে করেন, কাজের ভেতর দিয়েই শেখা হয়; আগে যে ভুল হয়েছে তা আর ঘটবে না বলেও আশা তাঁর। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, অতীত থেকে যেসব কর্মকর্তা শিক্ষা নেবেন না, তাঁদের শিক্ষা দেওয়া হবে।
দেশের আটটি উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে একসঙ্গে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হয়। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
কায়সার কামালের ভাষ্য, কৃষক কার্ড উদ্বোধনের অংশীদার হয়েছে দুর্গাপুরও; এ পর্যন্ত যে তথ্য মিলেছে, তাতে এখানে কোনো ত্রুটি হয়নি। তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি জিরো টলারেন্স।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, কার্ড দুটি বিতরণ করতে হবে দুর্নীতিমুক্তভাবে—দল, মত, পথ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা ও নির্দেশনাও এটিই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগের দেড় দশকের প্রশাসনিক সংস্কৃতি আর বর্তমান প্রশাসনকে এক করে দেখা চলে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বানও জানান।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের জন্য বিভিন্ন অনুদান বরাদ্দ হয়, অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে তা জানতে পারেন না। জনগণের জন্য যে অনুদান আসে, সে সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানোর প্রাথমিক দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনেরই।
তিনি জানান, এই দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। ডেপুটি স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, দরকার হলে জনগণও তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন।
এর আগে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন। কায়সার কামালের বক্তব্য, অতীতে অনেক কিছু ঘটেছে; সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে, অতীতকে ক্ষমাও করা হবে। কিন্তু অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন না এমন কর্মকর্তা বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে ছিলেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এতে হাজির ছিলেন নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক, কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু।