এশিয়ান গেমসে অব্যবস্থাপনায় ‘বিব্রতকর’ অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের
ছবিঃ সংগৃহীত
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গুরুতর লজিস্টিক বা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে পাকিস্তান ভলিবল দলকে—এমন অভিযোগ তুলেছেন দলটির অধিনায়ক মুরাদ জাহান। এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মুরাদ জানান, ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে দলের বাস নিয়ে যাওয়া হয় ভুল জিমনেসিয়ামে। ফলে প্রস্তুতির কাজ খেলোয়াড়দের সেরে নিতে হয় বাসের মধ্যেই, আর শরীর গরম করার (ওয়ার্ম-আপ) সময় কার্যত পাওয়াই যায়নি। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামে লেখেন, এশিয়ান গেমসের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে জাপান। ‘লজ্জাজনক’ এই পরিস্থিতিকে ‘সত্যিই হতাশাজনক’ আখ্যা দেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খাবার নিয়েও ক্রীড়াবিদদের বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দল অনুশীলন সেরে হোটেলে ফেরার পর অনেক সময় সেখানকার রেস্তোরাঁ বন্ধ পাওয়া যেত, যার ফলে খাবার জুটত না খেলোয়াড়দের। তিনি লেখেন, অনুশীলন শেষে ফিরে কখনো কখনো দেখা যেত, হোটেলের রেস্তোরাঁ বন্ধ, খাবারও মিলছে না।
একই রকম খাদ্য সংকটের মুখে নাগোয়ায় পড়েছিলেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরাও। পাকিস্তান তাদের পুরুষ ভলিবল অভিযান শুরু করে গতকাল, কাজাখস্তানকে ৩-১ সেটে হারিয়ে। ২৫-১৬ ও ২৫-২২ ব্যবধানে প্রথম দুটি সেট জেতার পর ২৫-১৭ ব্যবধানে তৃতীয় সেটে হেরে যায় দলটি, তবে চতুর্থ সেট নিজেদের করে নেয় ২৫-২০ ব্যবধানে।
নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ‘পুল এ’-র দ্বিতীয় প্রাথমিক রাউন্ডের ম্যাচে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ সেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এ জয়ের সুবাদে গ্রুপের শীর্ষস্থান এখন তাদের দখলে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জাপান, যার জন্য এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। প্রসঙ্গত, কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পায় প্রতিটি পুলের সেরা দুটি দল।
এশিয়ান গেমসের ভলিবলে পাকিস্তান কোনো পদকের দেখা পায়নি ভলিবলের আধুনিক ‘সিক্স-এ-সাইড’ (প্রতি দলে ছয়জন খেলোয়াড়) ফরম্যাট চালু হওয়ার পর থেকে। ১৯৬২ সালের জাকার্তা গেমসে পাওয়া ব্রোঞ্জ পদকই তাদের সেরা সাফল্য। আর ২০২২ সালের হাংজু গেমসে পঞ্চম স্থানে ছিল তারা।
এবারের প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দল অংশ নিচ্ছে ওই রেকর্ড পেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখেই। তবে মুরাদের মন্তব্যে সবার দৃষ্টি গেছে মাঠের বাইরের কঠিন পরিস্থিতির দিকেই।