ছবিঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্লাব কিংবা খেলোয়াড়দের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ম্যাচ বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়াকে ‘পাগলামি’ বলে মনে করেন টমাস টুখেল। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী রাউন্ডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৩-২ গোলের হারের পর নিজের এ ভাবনা আবারও তুলে ধরেছেন তিনি।
পাশাপাশি প্রাগে আগামী মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় পেতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিশ্রুতিও এসেছে তাঁর কাছ থেকে। এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগে ইংল্যান্ডের ম্যাচ রয়েছে চারটি। শনিবার তার প্রথমটিতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে হার মেনেছে টুখেলের দল। এরপর তাদের খেলা মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্র এবং শনিবার ক্রোয়েশিয়ার মাঠে। আর ৬ অক্টোবর নিজেদের মাঠে দলটি ফের মুখোমুখি হবে চেক প্রজাতন্ত্রের।
সূচি ঠাসা হওয়ায় দাবি উঠছে, গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের কারণে খুব কম ছুটি পেয়েছেন এমন কিছু খেলোয়াড়কে যেন বিশ্রাম দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে ক্লাবের কোনো কোচ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে প্রশ্ন করা হলে টুখেল সাংবাদিকদের বলেন, প্রিমিয়ার লিগের কোচদের ফোন তিনি ধরেন না; নিজেও ক্লাব ফুটবলে থাকাকালে কোনো জাতীয় দলের কোচকে কখনো ফোন করেননি। তিনি জানান, তাঁর পক্ষে খেলোয়াড়দের খেলার সময় বা মিনিট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের একটু পিছিয়ে আসা, অর্ধেক সময় খেলা কিংবা একটি ম্যাচে বিশ্রাম নেওয়া—এ ধরনের কিছু কখনোই করবেন না তিনি; একেই পাগলামি বলে আখ্যা দেন টুখেল।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা পরের ম্যাচটি জিততে চান এবং আদর্শ পরিস্থিতি হলো বারবার ঝাঁপিয়ে পড়া—অন্তত ছয় বা সাতজন খেলোয়াড়কে দিয়ে নতুন করে শুরু করা, যাতে তাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা যায় এবং তাঁরা সেই আস্থা অনুভব করতে পারেন। টুখেল জানান, মঙ্গলবার প্রাগের ফরচুনা অ্যারেনায় চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হয়ে সর্বশক্তি নিয়েই খেলবে তাঁর দল; তাঁদের হতে হবে উদ্যোগী ও আক্রমণাত্মক।
ইংলিশ কোচের ইচ্ছা, শুরুর একাদশে বেশি অদলবদল না করা। প্রাগ সফরের আগে স্পেনের বিপক্ষে হার দলের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, তা স্বীকার করেছেন টুখেল; যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তাঁর কথায়, তাঁরা সামলাতে পারবেন না এমন কোনো পরিস্থিতি নেই; ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে উদ্যোগী হয়ে। তিনি মন্তব্য করেন, এখানে খেলোয়াড়দের নিয়ে বাড়তি হিসাব-নিকাশ কিংবা রক্ষণশীল কৌশলের কোনো স্থান নেই; দল যেমন খেলতে চায়, খেলতে হবে তেমনই।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বেলিংহাম গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন সর্বোচ্চ পাঁচটি। অ্যান্থনি গর্ডনের সমতাসূচক গোলটিতে (১-১) তাঁর অ্যাসিস্টও ছিল এর মধ্যে। পেনাল্টিটিও তিনিই আদায় করে নিয়েছিলেন, তবে হ্যারি কেইন একটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন; সেটি গোল হলে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেত। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগ বারবার ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে বল পায়ে তাঁর দৌড়ে। এ ছাড়া ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে একটি সংঘাতের ঘটনাও ঘটে রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সতীর্থ মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে।